17/09/2024
রফতানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানায় সাশ্রয়ী মূল্যে সুতার জোগান নিশ্চিত করতে ভারতের দিকে ঝুঁকছেন অনেক শিল্পমালিক। তবে প্রশ্ন হলো, কম সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহের যখন চাপ বাড়ছে, তখন ঝুঁকি নিয়ে হলেও দেশীয় প্রতিষ্ঠান ছেড়ে সুতার জন্য কেন বিদেশমুখী হচ্ছেন তারা?
নিট শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মো. হাতেম বলেন, বাংলাদেশে এ মুহূর্তে প্রতি কেজি সুতার দাম ৩.৩ ডলার। তবে ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে কেনা যাচ্ছে ২.৭৭ ডলারে। এতে দামে পার্থক্য প্রায় ০.৫৩ ডলার।
বিদেশ থেকে কম দামে সুতা কিনে তৈরি পোশাক শিল্পমালিকরা লাভবান হলেও তা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে দেশের সুতাকল মালিকদের। এমনকি দিন দিন কারখানা বন্ধের শঙ্কা বাড়ছে বলেও দাবি বিটিএমএর। সংগঠনটির পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব হায়দার বলেন, মিলগুলো যদি চলতে তথা বেতন-ভাতা দিতে না পারে, তার সব দায়দায়িত্ব কেবল মালিকের ওপর বর্তায় না; এ জন্য দায়ী সিস্টেমও।
আরও পড়ুন: দেশীয় টেক্সটাইল বাঁচাতে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধ চান উদ্যোক্তারা
কেন বাজার থেকে ছিটকে পড়ছেন দেশের সুতাকল মালিকরা -- জানতে চাইলে তাদের জবাব, ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত স্বীকৃতির স্বপ্নে ভর করে গত জানুয়ারি থেকে ৪৩টি খাতে রফতানিপ্রণোদনা, নগদ সহায়তা তুলে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে এর মাশুল গুনছেন তারা। সে সঙ্গে জ্বালানিসংকটে কারখানাগুলো সক্ষমতার অর্ধেক বন্ধ রাখায় বেড়ে যাচ্ছে সুতার উৎপাদন খরচ। এসব কিছুই প্রতিযোগিতার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে তাদের।
অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, সুতার মতো কাঁচামালের বিদেশ-নির্ভরতা দিনশেষে হুমকির মধ্যে ফেলতে পারে দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পকে। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, নীতির কারণে দেশের উৎপাদিত পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তাই সুতাসহ অন্যান্য কাঁচামালে প্রণোদনা দিতে হবে। তা নাহলে কাঁচামালের বিদেশ-নির্ভরতায় হুমকির মুখে পড়তে পারে পোশাক খাত।
প্রতিযোগিতার এ বিশ্ববাজারকে আমলে নিয়ে দ্রুত বাণিজ্যসংক্রান্ত নীতি-কৌশলের পরিবর্তনের তাগিদও দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
আরও সময় সংবাদ
চেন্নাইয়ে পৌঁছে টাইগারদের ঘাম ঝরানো অনুশীলন
খেলা
১৩ ঘণ্টা আগে
চেন্নাইয়ে পৌঁছে টাইগারদের ঘাম ঝরানো অনুশীলন
শেখ হাসিনার ভাগ্য কি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে?
আন্তর্জাতিক
৮ ঘণ্টা আগে
শেখ হাসিনার ভাগ্য কি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে?
অনুশীলনে ফাঁস বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের প্রথম টেস্টের একাদশ
খেলা
১৫ ঘণ্টা আগে
অনুশীলনে ফাঁস বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের প্রথম টেস্টের একাদশ
সময়ের আজকের আলোচিত সাত খবর
বাংলাদেশ
১ দিন আগে
সময়ের আজকের আলোচিত সাত খবর
সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাণিজ্য
৮ টা ৩৯ মিনিট, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
গতির শহর ঢাকায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বিআরটিসি!
গতিশীল নগরী ঢাকায় এখনও মন্থরগতিতে চলছে রাষ্ট্রায়ত্ত গণপরিবহন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি)। যদিও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে যাত্রীচাপ। সে তুলনায় বিআরটিসির বাস যেন থেকেও নেই। অভিযোগ আছে, নাগরিকসেবা দিতে ব্যর্থ সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি। আর তাই একে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ যোগাযোগবিশেষজ্ঞদের।
ঢাকা মহানগরীর ৩৯টি রুটে বিআরটিসির সচল বাসের সংখ্যা ৪০৯টি। ফাইল ছবি
ঢাকা মহানগরীর ৩৯টি রুটে বিআরটিসির সচল বাসের সংখ্যা ৪০৯টি। ফাইল ছবি
আল কাছির
২ মিনিটে পড়ুন
রাজধানীর শনিরআখড়া বাসস্ট্যান্ডে কাঙ্ক্ষিত বাস পেতে অপেক্ষার আর শেষ থাকে না যাত্রীদের। এরপর বাসে উঠার জন্য হরতে হয় হুড়োহুড়ি; যেন প্রাণান্তকর চেষ্টা। ব্যস্ত সময়ে যাত্রীর এমন চাপ শহরের প্রায় সব বাসস্টপেই দেখা যায়। যাত্রীচাপের তুলনায় বাসের সংখ্যা খুবই কম। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, গণপরিবহনের এমন সংকটকালে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআরটিসির ভূমিকা কী?
যাত্রীরা বলেন, শনির আখড়া থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে যেতে প্রচুর ভোগান্তি পোহাতে হয়। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়ে বাসের জন্য। এখানে বিআরটিসি বাসের সুবিধা থাকলে যাত্রীদের জন্য ভালো হয়।
আরও পড়ুন: ভবিষ্যতে নিজেরাই গাড়ি বানাব, বললেন বিআরটিসি চেয়ারম্যান
এমন পরিবহন সংকটের মুহূর্তে বিআরটিসির বিরুদ্ধে আছে মানুষের নানা অভিযোগ। নির্দিষ্ট স্টপে গাড়ি না থামা, আর সময়মতো গাড়ি না পাওয়াসহ বিস্তর অভিযোগ। গাড়ির হেল্পার ও চালকরা বলছেন, বিআরটিসির মূল সমস্যা জনবল সংকট। আর যাত্রীরা বলছেন, রাতের বেলা বিআরটিসির গাড়ি বাড়ালে নারী যাত্রীদের জন্য ভালো হয়। গাড়ির সংখ্যা ও সেবার মান দ্রুত বাড়ানো দরকার।
বিআরটিসির তথ্য বলছে, ঢাকা মহানগরীর ৩৯টি রুটে সংস্থাটির সচল বাসের সংখ্যা ৪০৯টি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাড়ায় আছে ১২১টি, স্টাফ বাস হিসেবে চলছে ২৩৩টি। মেরামতের জন্য ৬২টি, আর অচল অবস্থায় ডিপোতে আছে ১২টি বাস।
গ্রাফিক্স চিত্রে বিআরটিসির বাসের সংখ্যা
বিআরটিসি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন,
গাড়ির সংখ্যা খুবই সীমিত। কিন্তু বিআরটিসির বাসের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে মানুষের।
তবে বিপর্যয় সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিআরটিসি। লোকসানে ডুবে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে লাভ করে ২৫ কোটি ৪ লাখ টাকা। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে লাভের পরিমাণ ছিল ৪৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে থেকে বিআরটিসিকে আরও গতিশীল করার আশ্বাস দিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান। বহরে থাকা গাড়িগুলো সচল করে ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলছেন তিনি।
আরও পড়ুন: প্রবাসী কর্মীদের জন্য শাহজালালে চালু বিআরটিসির শাটল বাস সার্ভিস
যাত্রীসেবা উন্নয়নে বিআরটিসিকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিচ্ছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, নাগরিকসেবা প্রদানে বিআরটিসিকে জোর দিতে হবে অপারেশনস বিভাগে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন,
বিআরটিসির অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা অনেক। নাগরিকসেবা দেয়ার জন্য প্ল্যান করে আগাতে হবে। কিন্তু সংস্থাটির অপারেশনস পরিপক্ব না। তাই পরিবহন কীভাবে পরিচালনা করতে হয়, এ বিষয়ে অভিজ্ঞদের নিয়োগ দিতে হবে।
মেট্রোরেলের সুবাদে যেখানে এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছুটছে মানুষ, সেখানে এখনো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই চলছে লাল রংয়ের এ বাস। তবে বহরে নতুন ৩৪০টি সিএনজিচালিত এসি বাস যুক্ত হলে ফিরতে পারে গতি -- এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের