11/06/2025
বইয়ের শিরোনাম: হ্যামলেট
লেখক: উইলিয়াম শেকসপিয়ার
প্রকাশকাল: ১৫৯৯-১৬০১
ধরণ: নাটক(ট্রাজেডি)
"To be, or not to be” এই দ্বিধান্বিত বিখ্যাত সংলাপটি শেক্সপিয়ার এর বিখ্যাত ট্রাজেডি নাটক "হ্যামলেট" এর নাম ও কেন্দ্রীয় চরিত্রের।
নাটকের মূল চরিত্র ডেনমার্কের রাজপুত্র হ্যামলেট নাটকের শুরুতেই জানতে পারে যে তার বাবা, আগের রাজা স্বাভাবিকভাবে মারা যাননি বরং তাকে হত্যা করা হয়েছে। হ্যামলেটের বাবা একদিন রাতে প্রেতাত্মা হয়ে প্রাসাদে ঘুরে বেড়ায় এবং একদিন হ্যামলেটকে জানায়, হ্যামলেটের চাচা ক্লডিয়াস তাকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেছে যাতে ক্লডিয়াস রাজা হতে পারে এবং হ্যামলেটের মা গারট্রুডকে বিয়ে করে তার মনোবাসনা পূরণ করতে পারে।
এই বিষয়ে জানার পর হ্যামলেট মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়ে। পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে চাইলেও সে নানা সন্দেহ ও দোটানায় পড়ে যায়। সে কখনো পাগলের মতো আচরণ করে, আবার কখনো খুব গভীরভাবে চিন্তা করতে থাকে।
হ্যামলেট একটি নাটকের সাহায্যে ক্লডিয়াসের অপরাধ এর ঘটনাটি নাটকের মধ্যেই তুলে ধরে। নাটকে ঠিক সেইরকম একটি হত্যার দৃশ্য দেখানো হয় যেভাবে তার বাবা মারা গিয়েছিল। সেই দৃশ্য দেখার সাথে সাথে ক্লডিয়াস অস্থির হয়ে পড়ে এবং হ্যামলেট নিশ্চিত হয় যে সে দোষী। নাটকের সাবপ্লটে হ্যামলেট ভুল করে তার প্রেমিকা ওফেলিয়ার বাবা পোলোনিয়াসকে মেরে ফেলে। ওফেলিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত মারা যায়।বোনের ও বাবার মৃত্যু প্রতিশোধ নিতে পোলেনিয়াস এর ছেলে হ্যামলেটকে মারার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে থাকে।
নাটকের শেষ অংশে একটি দ্বন্দ্বযুদ্ধ হয়, যেখানে হ্যামলেট, ক্লডিয়াস, গারট্রুড ও লিয়ার্টিস মারা যায়। মৃত্যুর আগে হ্যামলেট রাজ্য শাসনের দায়িত্ব দেয় প্রিন্স ফোর্টিনব্রাসকে।
হ্যামলেট নাটকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো চরিত্রগুলোর মানসিক জটিলতা। শেক্সপিয়ার এমন এক হ্যামলেটকে উপস্থাপন করেছেন, যে গভীরভাবে চিন্তাশীল, কখনো অস্থির, কখনো দার্শনিক আবার কখনো প্রতিহিংসাপরায়ণ। এই দ্বন্দ্ব, সংশয়, প্রতিশোধপরায়ণতা প্রভৃতি বিষয়গুলো আজও প্রাসঙ্গিক, যা হ্যামলেটকে আধুনিক পাঠকের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
তাই ইংরেজি ক্লাসিক সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় অংশ হিসেবে হ্যামলেট আজও পাঠক নন্দিত।