24/02/2026
—ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী একজন পঞ্চাশোর্ধ (বা যেকোনো বয়সের) পুরুষের জন্য অপরিচিত/নন-মাহরাম (গায়রে মাহরাম) মহিলার দ্বারা পুরো শরীরে ম্যাসাজ নেওয়া সাধারণভাবে জায়েজ নয়।
নিচে কুরআন, হাদিস ও ফিকহের আলোকে ব্যাখ্যা দিচ্ছি।
১) কুরআনের নির্দেশ
১.১ দৃষ্টি সংযম ও পবিত্রতা
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে…”
— সূরা আন-নূর ২৪:৩০
এই আয়াতের তাফসীরে মুফাসসিরগণ বলেছেন, দৃষ্টি সংযম ও লজ্জাস্থান রক্ষা—উভয়ই পরস্পর সম্পর্কিত। যে কাজ স্বাভাবিকভাবে শারীরিক স্পর্শ ও ঘনিষ্ঠতার দিকে নিয়ে যায়, তা এ নির্দেশনার পরিপন্থী।
১.২ পর্দার বিধান
“...তোমরা যখন তাদের কাছে কিছু চাইবে, পর্দার আড়াল থেকে চাইবে...”
— সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫৩
যদিও এ আয়াত বিশেষ প্রেক্ষাপটে নাজিল, ফুকাহাগণ এখান থেকে নারী-পুরুষ মেলামেশায় সতর্কতা ও সীমারেখার নীতি গ্রহণ করেছেন।
২) হাদিসের দলিল
২.১ স্পর্শ সম্পর্কে কঠোর সতর্কতা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমাদের কারো মাথায় লোহার সূচ ঢুকিয়ে দেওয়া তার জন্য উত্তম, সে এমন নারীকে স্পর্শ করার চেয়ে যে তার জন্য হালাল নয়।”
— বর্ণনা: Muhammad ﷺ; তাবারানী (হাদিসটি সহীহ হিসেবে গ্রাহ্য করেছেন অনেক মুহাদ্দিস)
এ হাদিস থেকে অধিকাংশ আলেম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—গায়রে মাহরাম নারীর শরীরে স্পর্শ হারাম।
৩) ফিকহি মতামত (চার মাযহাবের সারকথা)
চার মাযহাব—Abu Hanifa (হানাফি), Malik ibn Anas (মালিকি), Al-Shafi'i (শাফিঈ), Ahmad ibn Hanbal (হানবলি)—সবগুলোর মৌলিক অবস্থান হলো:
গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষের স্পর্শ বৈধ নয়,
যদি না তা চিকিৎসাজনিত চরম প্রয়োজন (দারুরাহ) হয় এবং
একই লিঙ্গের চিকিৎসক/থেরাপিস্ট পাওয়া সম্ভব না হয়,
এবং প্রয়োজনের সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
৪) তাহলে থেরাপি/ম্যাসাজের ক্ষেত্রে কী হবে?
সাধারণ অবস্থা:
একজন পুরুষের জন্য মহিলা ম্যাসাজ থেরাপিস্ট দ্বারা পুরো শরীর ম্যাসাজ নেওয়া জায়েজ নয়।
কারণ এতে সরাসরি শারীরিক স্পর্শ ও অনেক ক্ষেত্রে ‘আওরাহ’ সংশ্লিষ্ট বিষয় জড়িত।
ব্যতিক্রম (দারুরাহ/চরম প্রয়োজন):
ইসলামে একটি নীতি আছে:
“আদ-দারুরাতু তুবীহুল মাহযুরাত” — চরম প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়কে সীমিতভাবে বৈধ করতে পারে।
কিন্তু শর্ত হলো:
প্রকৃত চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন থাকতে হবে (শুধু আরাম/রিলাক্সেশন নয়)
পুরুষ থেরাপিস্ট পাওয়া যাবে না
যতটুকু দরকার ততটুকুই স্পর্শ
ফিতনার আশঙ্কা না থাকা
এ অবস্থাও আলেমদের মধ্যে মতভেদপূর্ণ এবং খুব সীমিতভাবে অনুমোদিত।
৫) করণীয় কী?
✔ সম্ভব হলে পুরুষ থেরাপিস্ট নিন
✔ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি করান
✔ ঘরে স্ত্রী থাকলে তার মাধ্যমে ম্যাসাজ নেওয়া সম্পূর্ণ জায়েজ
সারসংক্ষেপ
👉 সাধারণভাবে: জায়েজ নয়
👉 চরম চিকিৎসাগত প্রয়োজনে: কঠোর শর্তসাপেক্ষে সীমিত অনুমতি হতে পারে
👉 উত্তম পথ: একই লিঙ্গের থেরাপিস্ট নেওয়া