17/01/2026
৫২'র মহান ভাষা আন্দোলনে ঢাকায় ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে মিছিল করেছিলেন যে কজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী-তার মধ্যে অন্যতম বাগেরহাটের হালিমা খাতুন, রাবেয়া খাতুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে মিছিলে পা'য়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বাগেরহাটের সরদার আনোয়ারুল ইসলাম। মিছিল করেছিলেন শেখ আব্দুল আজিজ, কাজি আজহার আলি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেলের সাথে সারা দেশের মতো তৎকালীন বাগেরহাট মহাকুমার ঐতিহ্যবাহী পিসি কলেজেও ভাষা আন্দোলনে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। সেই কর্মসূচীতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তৎকালীন পিসি কলেজের সাহসী ছাত্র-শেখ আশরাফ হোসেন, মনসুর আহম্মেদ, দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল খালেক, জহুরুল হক, মারুফুল হক, এজাবুল হক, ইবরাহীম হোসেন লাল, আব্দুল জলিল, আঃ ছত্তার খা, শেখ নজিবর রহমান, শেখ আলী আহম্মেদ। তাদের আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন বাগেরহাটের তৎকালীন যুবনেতা শেখ আমজাদ আলী গোরাই, সৈয়দ রওনক আলী হারু, আব্দুল গনি সরদার, আব্দুল বারি ইজারাদার, স্কুল ছাত্র এসএম সোহরাব হোসেন সহ নাম না জানা অনেক ছাত্র ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ব্যক্তিবর্গ। পিসি কলেজের ছাত্রদের আন্দোলনে সংহতি জানানোর কারণে চাকরিচ্যুত হন অধ্যাপক মীর মোশাররফ হোসেন। ঝিনাইদহ এ ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন বাগেরহাটের শেখ হাবিবুর রহমান। ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়ার কারণে তৎকালীন নুরুল আমীন স্কুলের ছাত্রত্ব হারান ফারুক মাহমুদ।
৫২'র একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন রফিক, শফিক, সালাম, জব্বার, বরকত। ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে সারা দেশের মতো বাগেরহাট শহরে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। সেই প্রতিবাদ সমাবেশে নিজের লেখা - "রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনও কিরিলিরে বাঙ্গালী
ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি" কালজয়ী গান গেয়ে সংহতি জানাতে উপস্থিত হন বাগেরহাটের চারণকবি সেখ সামছুদ্দীন।
বাগেরহাটের ভাষা আন্দোলন গবেষনা কার্যক্রমে যারা সহযোগিতা করেছেন - মাহমুদ হাসান, রফিকুল আলম মিন্টু, জাকির হোসেন, ওয়াহিদ মুরাদ মধু, ফররুখ হাসান জুয়েল, মরহুম মীর জোসেফ, আশেক ইব্রাহীম, তুহিন, তানজির, রোমেল, বিদ্যা ও মেহেদী।
বিঃদ্রঃ- এখানে যাদের ছবি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
অনেকের ছবি অতি পুরাতন এবং ক্ষতিগ্রস্ত, পুরাতন ছবি থেকে স্কেচ করতে যেয়ে কিছুটা অমিল হতে পারে।
ছবি সংগ্রহ, গ্রাফিক্স ও স্কেচ ঃ আবদুল্লাহ বনি।
★একটি বাগেরহাট ফিল্ম সোসাইটি উদ্যোগ★