11/05/2023
(Last)
ক্যামেরা এবং ফোন নিয়ে ইনভেস্টিগেশন শুরু করার পর জানা গেল! তারা নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর পর্যন্ত তাদের ফোন এক্টিভেট ছিল। শুরুতে তারা ১১২ এবং ৯১১ ইমার্জেন্সি নাম্বারে কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করে, কিন্তু এত গহীন জঙ্গলে সিগন্যাল না থাকায় বারবার তারা যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়। তারা মোট ৭৭ বার যোগাযোগের চেষ্টা করছিল। কিছুকিছু কল তারা হাইকিং শুরুর কয়েকঘন্টার মধ্যেই করেছিল, কিন্তু নেটওয়ার্ক না থাকায় কানেক্ট হয়নি। এটি এমন একটি দুর্দান্ত গন্তব্য যেখানে ঘন কুয়াশা এবং কুয়াশাচ্ছন্ন মেঘ প্রায়শই গাছপালাকে ঢেকে রাখে। এছাড়া চারদিক ঘন জঙ্গলে পাহাড় পর্বতে বিস্তৃত।
০১ এপ্রিল তারা যাত্রা শুরু করেছিল। এরিমধ্যেই ০৫ এপ্রিল লিসানের ফোন সুইচ অফ হয়ে যায়। এরপর থেকে লিসানের ফোন আর অন করা হয়নি।
ক্রিসের ফোন ০৬ এপ্রিল পর্যন্ত ইমার্জেন্সি কল করার জন্য অন ছিল। ৭-১০ এপ্রিল পর্যন্ত ক্রিসের ফোন সুইচ অফ দেখাচ্ছিলো।
তারপর ১১ এপ্রিল ক্রিসের ফোন কিছুক্ষণের জন্য অন করা হয়েছিল। এরপর থেকে তার ফোনও বন্ধ হয়ে যায়।
তবে এই ৭৭ বার ইমার্জেন্সি কলের মধ্যে মাত্র একবার কানেক্ট হয়েছিল তাও দু সেকেন্ডের জন্য। এছাড়া ০৬ এপ্রিলের পর ক্রিসের ফোন থেকে কেউ যেনো বারবার ভুল পিন ডায়াল করে আনলক করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু কে সে?? বিশেষজ্ঞের মতে, সেদিন হয়তো ক্রিসের কিছু একটা হয়েছিল। যার জন্য লিসান বারবার ভুল পিন ডায়াল করে ক্রিসের ফোন আনলক করতে চেয়েছে। চিন্তার বিষয় হচ্ছে, সেসময় ক্রিস কোথায় ছিল? সত্যিই কি ক্রিসের দূর্ঘটনা হয়েছিল। যা আজও রহস্যময়।
গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্ট হচ্ছে, যেকোনো ইমার্জেন্সি নাম্বার ৯১১ বা ১১২ এগুলোতে কল করার জন্য ফোন আনলক করার প্রয়োজন হয়না। তাহলে লিসান বারবার কেন ফোন আনলক করার চেষ্টা করছিল?? হয়তো ইমার্জেন্সি নাম্বারের জায়গায় লিসান তার ফ্যামিলির সাথে যোগাযোগ করতে চেয়েছিল, নয়তো সে ব্যক্তি অন্যকেউ ছিল। তবে ভাবনার বিষয় হলো লিসানের ফোন থেকে আগে কেন ইমার্জেন্সি কল ব্যতিত ফ্যামিলির সাথে কন্টাক্ট করার চেষ্টা করা হয়নি। যদি ক্রিস এবং লিসান ব্যতিত অন্যকেউ ফোন আনলক করার চেষ্টা করে, তাহলে সে মুহুর্তে ক্রিস এবং লিসান কই ছিল??
ক্যামেরা এবং ফোন ইনভেস্টিগেশন করার পর আরও জানা যায়, তাদের মোট ১৩৩ টি ছবি তোলা হয়েছিল। কিছু ছবি এপ্রিলের শুরুতে তোলা হয়, যেগুলো একদম নরমাল ছিল। তারপর থেকে ৭ দিন ধরে আর ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়নি। ০৮ এপ্রিল প্রায় ৯০ টির মতো ছবি তোলা হয়। এই ছবিগুলো রাত ১-৪ টার মধ্যে তোলা হয়েছে। যেখানে কিছু ছবি বড়ই অদ্ভুত ও রহস্যময় ছিল।
অস্বাভাবিক ক্যামেরা এঙ্গেল ও ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে তোলা ছবিগুলো দেখে যে কারো মনে প্রশ্ন আসতে পারে। কেন তোলা হয়েছে এসব ছবি??
৮ এপ্রিল তোলা একটি ছবি ছিল বেশ আজব। এটি ছিল ক্রিসের মাথার একটি 'ক্লোজ শট'। ক্লোজ শট বলতে বোঝায় মাথা থেকে বুক বা কোমর পর্যন্ত গৃহীত শটকে।
ক্রিসের চুলগুলো দেখে মনে হচ্ছে শুকনো এবং গোছালো। সপ্তাহ খানেক ধরে নিখোঁজ হওয়া কারো চুল এরকম গোছালো হওয়ার প্রশ্নই আসেনা। তাছাড়া ক্রিসের মাথার এই ছবিগুলো কে তুললো? লিসান নাকি অন্যকেউ?? ছবিতে বোঝার কোন উপায় নেই। সে তখন জীবিত নাকি মৃত!
সময়টা ১৯ জুন ২০১৪। লিসানের নীল ব্যাগ পাওয়ার পর আবারও ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। আবিষ্কার করা হয় আশেপাশে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় ৩৩ টি হাড়, দু'জনের একটি করে দুটো জুতা (লিসানের জুতার ভেতর তার পায়ের পাতাও ছিল) ও একটি ভাঙ্গা পেলভিস (কোমরের হাড়)। ফরেনসিক রিপোর্টে জানা গেল ওটা ছিল মূলত ক্রিসের পেলভিস। পেলভিস হলো বৃক্কের হাইলাসে অবস্থিত একটি গহ্বর।
এছাড়া যে হাড়গুলো পাওয়া গিয়েছিল সেগুলো বেশির ভাগই ছিল পায়ের। লিসানের হাড়ে মাংস ও চামড়া লেগে থাকলেও ক্রিসের হাড় ছিল একেবারেই পরিস্কার ও মাংস/চামড়া বিহীন। হাড়ে কোনো প্রকার রক্তের চিহ্ন বা কাটা-ছেঁ*ড়া ও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কেউ তাদেরকে খু*ন করছে এরকম কোনো প্রমাণও মিলেনি।
অবশেষে পুলিশ ব্যাখ্যা দিলেন যে- তারা পাহাড় থেকে নদীতে পড়ে গেছে। উপর থেকে পড়ার কারণে তাদের হাড়গোড় ভেঙে গেছে। আঘাতের সাথে খাদ্য ও পানির সংকটের কারণে তারা আর বাঁচতে পারেনি। কেসটা এখানেই ক্লোজ করে দেয়া হয়।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, তারা যেখান থেকে হারিয়ে যায় সেখান থেকে ১৭০ কি.মি দূরের পাহাড়ের উপর ক্রিসের পোশাক পাওয়া যায়। ওখানে হেঁটে ফিরে আসতে যেকোনো স্বাভাবিক মানুষের কমপক্ষে ১০ দিন লাগার কথা, সেখানে বিনা খাবারেও ছোট ১ বোতল পানি নিয়ে ওখানে তার যাওয়ার প্রশ্নই আসেনা।
আমার মতে (অনুমান): হাইকিং শুরুর কয়েকদিন পরই ক্রিসের পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। সেজন্য তারা বারবার ইমার্জেন্সি নাম্বারে কল দিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু সিগন্যাল না পেয়ে অধিক মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ক্রিসের মৃত্যু হয়। এমন মুহূর্তে লিসানের ফোন বন্ধ হয়ে যায়। হয়তো ফোনে পর্যাপ্ত চার্জ ছিল না। সেজন্য লিসান বারবারই ক্রিসের ফোন থেকে ভুল পিন ডায়াল করে আনলক করার চেষ্টা করে, কিন্তু সফল হয়নি। তারপর না হয় পথ ভুলে যাওয়ায় খাদ্য সংকটের কারণে লিসানেরও মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া তাদের ইনভেস্টিগেশনে যথেষ্ট দূর্বলতা ছিল। না হয় খুব সহজে সত্যতা উন্মোচন করা সম্ভব হতো। আপাতত এতটুকুই। এরপর যদি কোন ক্লো মিলে তাহলে অবশ্যই আমি আপনাদের জানানোর চেষ্টা করবো।
#সবাই লাইক কমেন্ট এবং আমার পেজ-টি ফলো করে সাথে থাকবেন। ধন্যবাদ
Author: M A Salam Sumon