Argentum

Argentum অতিদূর সমুদ্রের পর

যারা টাইমলুপের গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্য মাস্টওয়াচ। প্রথম কিস্তি এটা...গোলকধাঁধার খেলা...
18/04/2026

যারা টাইমলুপের গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্য মাস্টওয়াচ। প্রথম কিস্তি এটা...গোলকধাঁধার খেলা...

12/04/2026

আমাকে ছেড়ে যাওয়া 'তোমাকে'-
আটকাতে মাঝেমাঝে অচল করে দেই শহরের সব সিগন্যাল!

যেন কিছুতেই
পৌঁছাতে না পারো পুরোনো ক্যাফেতে নতুন কারো কাছে!

সেখানে টকটকে চেহারার একঝাঁক নন্দিত গোলাপ-
মলিন শঙ্কায় ভুগবে বিবর্ণমুখের বিভ্রান্ত প্রেমিকের হাতে!

শুধু তোমাকে যেতে দেবো না বলে-
বিভিন্ন দাবি তুলে আটকে রাখি সড়ক-মহাসড়কসহ সমস্ত অলিগলি!

বাজারের সব আইশ্যাডো-লিপস্টিক বাজেয়াপ্ত করে ফেলে দেই বুড়িগঙ্গায়-
যেন সাদাকালো তোমাকে ভ্যাসলিনের মতো ফ্যাকাসে দেখায় অন্যসব প্রেমিকের কাছে !

মৎস্য ভবন মোড়ে তুমি কেনার আগেই-
বিক্রি করে দেই সব হিমশীতল অরেঞ্জ, ম্যাঙ্গো কিংবা লেমন পানীয়!

শুধু একবার তোমাকে 'তুমুল তৃষিত' দেখবো বলে-
সুপেয় নির্দোষ পানিতে দোষ মিশিয়ে নাম নেই ঢাকা ওয়াসার!

11/04/2026

তুমি কী চৈত্রের উপ-সহকারী পরিচালক হতে পারো না?
তাহলে...
রুপালি রোদ্দুর মোড়ানো মেঘের ফাইল খুলে খসখস করে লিখে দিতে পারতে একগুচ্ছ সর্বনাশের বিকেল!

কিংবা...
সর্বগ্রাসী সন্ধ্যা!

এক বাড়িতে থাকে চার ভ্যাম্পায়ার! জীবন্মৃত থাকা যে সহজ নয়, স্বাভাবিক মনুষ্য জীবনের চেয়েও কঠিন, সেটা টের পাওয়া যায়...সঙ্গে ...
23/03/2026

এক বাড়িতে থাকে চার ভ্যাম্পায়ার! জীবন্মৃত থাকা যে সহজ নয়, স্বাভাবিক মনুষ্য জীবনের চেয়েও কঠিন, সেটা টের পাওয়া যায়...সঙ্গে আছে নবাগত 'স্বঘোষিত ড্রাকুলা' এবং এলাকার কিছু বখাটে নেকড়েমানব/ওয়্যারউলফের এক্সট্রা উৎপাত-তাফালিং-মারপিট...

যারা ডার্ক কমেডি হরর পছন্দ করেন...তাদের জন্য মাস্ট ওয়াচ রিকমেন্ডেশন....

21/03/2026

আপনার চশমার দুই পাশের গ্লাস দু'রকম কেন? এই প্রশ্ন যখন চশমার দোকানের সেলসম্যান আমাকে করলো, তখন তব্দা খাওয়ার দশা!

হচকিত হয়ে বললাম, দু'রকম মানে?
সেলসম্যান গম্ভীরভাবে বললো, একটা অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিং। আরেকটা নন-রিফ্লেক্টিং!

আমি আহত গলায় প্রতিবাদ জানালাম, এটা তো হওয়ার কথা নয়। গেল ৪/৫ বছর হবে চোখের ১২টা বাজিয়ে এই চশমা ব্যবহার করছি!

সেলসম্যান আমার কাছ থেকে চশমা নিয়ে বললো, বিশ্বাস না হলে এখুনি চেক করে দিচ্ছি...

সেলসম্যান চশমার নিচে সাদা কাগজ রেখে ব্লু-লাইট লেজার চার্জ করলো। একপাশের গ্লাসে নীল আলো ভেদ করতে না পেরে প্রতিফলিত বা রিফ্লেক্ট হলো! অন্যপাশের গ্লাস ভেদ করে সাদা কাগজের ওপর গিয়ে পড়লো ব্লু-ফেয়ারি লায়লা! হাতেনাতে ধরা!

তাতে আত্মসম্মান যা ছিলো তাও বিসর্জিত। সেলসম্যানের কাছে এবার নিজেকে সমর্পণ করে দিলাম, এর রহস্য কী? কেন করে? নাকি কারিগরি অবহেলা?

সেলসম্যান বললো, এমন তো কেউ করে না। সুযোগও নেই। আমরা ডেলিভারির সময় ব্লু-লাইট দিয়ে গ্লাস চেক করে দেই! আপনার সঙ্গে কেন যে এমন করেছে!!

কী বলবে সেলসম্যান!! বোঝাই যাচ্ছে, এই স্বচ্ছ(!) প্রতারণার জন্য দায়ী আমারই 'অন্ধবিশ্বাস'!

অন্ধবিশ্বাস ছাড়াও আমি দীর্ঘদিন প্রায় অন্ধত্বে ভুগছি! চশমা ছাড়া দূরের বস্তু আবছা দেখি! চক্ষুবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে মায়োপিয়া বা ক্ষীণদৃষ্টি। তাই চশমার ব্যাকআপ রাখতে হয়। অফিসে, বাসায় কিংবা ট্যুরে স্পেয়ার কপি রাখি। যেন চশমা হারালে/ভাঙলে অন্ধত্ব এড়ানো যায়। তাই ৪/৫ জোড়া একবারে নিতে হয়!

আর্কাইভ মেমরি বলছে, ৪/৫ বছর আগে ৪ জোড়া চশমা ও ২টা পাওয়ার অ্যাডজাস্টেড সানগ্লাস নিয়েছিলাম নামকরা এক ব্র্যান্ডের পান্থপথ শাখা থেকে। ঢাকায় যাদের পান্থপথসহ বসুন্ধরা আবাসিক, বনানী, উত্তরা, মিরপুরে আউটলেট, আছে। শাখা আছে চট্টগ্রামেও। এতো বড় প্রতিষ্ঠান এতো ছোট অপরাধ করবে?

এমন অন্ধবিশ্বাসে চশমাগুলো রিসিভ করার সময় অর্ডার অনুযায়ী অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিং গ্লাস চেক করার তাগিদ অনুভব করিনি!

ওই আউটলেট থেকে নেয়া চারটি চশমার মধ্যে এটিও একটি। বাকি তিনটে এর মতোই দু'নম্বর কি-না থরো চেকআপ দরকার ছিলো! সম্ভব হলো না। গেল ৪/৫ বছরে দুটো ভেঙেছে! আরেকটি নিজ দায়িত্বে নিখোঁজ। সদ্য হারিয়েছে!

তাই নতুন চশমার খোঁজে মিরপুর-১ নম্বরে দোকানে দোকানে ঘুরছিলাম! এরমধ্যে এই দোকানে এসে তরুণ আর্কিমিডিসের সঙ্গে দেখা। যিনি আমার চশমা থেকে পেয়ে গেলেন এই অভিনব 'ইউরেকা'!

ফ্রেম পছন্দ করার পর সেলসম্যান আমাকে আগেই জিজ্ঞাসা করেছিলো, কী ধরনের গ্লাস নেবেন? তখন চোখ থেকে চশমা খুলে তার হাতে দিয়ে বলেছিলাম, দেখুন তো, এটার মতো হুবহু দিলেই চলবে!

ঘটনার পরিশেষে সেলসম্যান সেই কথার সূত্র ধরে এবার প্রশ্ন করলো, তাহলে এখন কী করবো? এই চশমার মতোই দু'পাশে দু'রকম গ্লাস দিয়ে দিবো?

26/01/2025

দীর্ঘদিন মানিব্যাগে বড় সাইজের সেফটিপিন রাখতাম। হুটহাট আমার পায়ের স্যান্ডেল ছিঁড়ে যেত। যেমন একবার এক সাফারি পার্কের শেষ মাথায় গিয়ে স্যান্ডেলের সামনের অংশের একপাশ ছিঁড়ে গেল! গহীন অরণ্যে কোথায় পাবো কারে? ছিঁড়ে যাওয়া বখাটে স্যান্ডেলকে তাৎক্ষণিক বশীভূত করতে তখন মানিব্যাগ থেকে হাজির হতো সেফটিপিন। স্যান্ডেল দ্রুত ছিঁড়ে যেত কারণ ওগুলো তুলনামূলক সস্তা। দাম ১৫০ টাকা জোড়া। বার্মিজ স্যান্ডেল নামে বিক্রি হতো এলিফেন্ট রোডের ফুটপাতে। একবারে ৪/৫ জোড়া কিনে রাখলে এক জোড়া নষ্ট হয়ে গেলে আরেকজোড়া পরা শুরু হতো।

তারও আগে স্কুল/কলেজে থাকতে বাটা থেকে স্যান্ডেল কিনে দেয়া হতো ঈদের সময়। ৭/৮ মাস পরেই দেখা যেত ডান পায়েরটা গোড়ালির দিকে স্যান্ডেলের সোল ক্ষয় হয়ে গোলাকৃতি ছিদ্র হয়ে গেছে। বাম পায়েরটা হয়তো সোলের মাঝ বরাবর ফেটে চৌচির। তখন যে রাস্তায় হাঁটতাম সেটারই ফিল পেতাম। পানি বা কাদা জমে থাকলে সেটাও ওসব ফুটোফাটা সোল দিয়ে পায়ের নিচে পরশ বুলাতো। ধুলোবালিও লাগতো প্রচুর। ইটের ভাঙা ছোট টুকরো স্যান্ডেলের নিচে পরলে তো কথাই নেই- ফিল লাইক 'অ্যাকিলিস হিল'! মানে মানুষ দেখছে আমার পায়ে স্যান্ডেল আছে ঠিকই- কিন্তু আমি টের পাচ্ছি স্যান্ডেলের কোনো কার্যকারিতা নেই!

এজন্য শীতকাল এলেই আমার দুই পায়ের চামড়া শুকিয়ে শক্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ফেটে যেত। সেখানে আবার ধুলো জমে যাচ্ছেতাই অবস্থা। পরে ব্লেড দিয়ে সেই শুকনো শক্ত চামড়া চেঁছে ফেলতাম। পথ আমার জন্য সবসময়ই ছিলো কণ্টকাকীর্ণ!

এতকিছু হঠাৎ লিখতে ইচ্ছে হলো...ক'দিন আগে সুপরিচিত একটি ব্র্যান্ডের শো-রুম থেকে নতুন একজোড়া জুতো কিনে ভজঘট বেঁধে যাওয়ার পর। সেটা বলার আগে পুরানো জুতা কেনার একটা গল্প বলি...সেফটিপিনের কথা বলছিলাম। তাই সেফটি বুটসের গল্পটা মনে পড়ছে...

ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়ার কারণে নিয়মিত সু পরতে হতো। ভার্সিটিতে ওঠার পর যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। নিয়মিত 'সু' ঘষে চকচকে রাখতে হয় না। ছেঁড়াফাঁটা স্যান্ডেল পরেই দিব্যি দিন কেটে যাচ্ছিলো। সমস্যা শুরু হলো, অফিস অ্যাসাইনমেন্টে যাওয়া নিয়ে। রিপোর্টিংয়ে তো আর স্যান্ডেল পরে যাওয়া যায় না। পকেটের দুর্বল সামর্থ্য অনুযায়ী সস্তায় দোকানে-শো-রুমে ঘুরে জুতা কেনার চেষ্টা করি-কিন্তু পায়ে ঠিক ফিট হয় না। মানে পরে আরাম পাই না।

হঠাৎ এক সন্ধ্যায় মিরপুর-১ নম্বর মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্সের সামনের ফুটপাতে পেয়ে গেলাম একজোড়া 'সেফটি বুটস'। এই জুতোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, পায়ের আঙুলের দিকে বিশেষ সুরক্ষার জন্য 'স্টিল ক্যাপড' চামড়ার ভেতরে সেলাই করে বসানো থাকে। ট্রায়াল দিয়ে দেখলাম, আমার পায়ের মাপে একদম ঠিকঠাক। যা ফুটপাতের জুতা বিক্রেতার ভাষায়- 'খাপে খাপ ময়নার বাপ'! তো দামদর করে ১২শ' টাকা দিয়ে কিনে ফেললাম ১৫ হাজার টাকা (বিক্রেতার দাবি অনুযায়ী) দামের 'ময়নার বাপ' ওরফে পাদুকাযুগল!

পরদিন 'সেফটি বুটস' পরে মহানন্দে চলে গেলাম অফিসে। ইউনিট নিয়ে অ্যাসাইনমেন্টে যাবো। বিকেল ৩টায় কারওয়ানবাজার ডেইলি স্টার বিল্ডিংয়ের সেমিনার হলে অর্থনীতি বিষয়ক একটা অনুষ্ঠানে যেতে হবে। অফিসের লিফটে উঠেই টের পেলাম গড়বড় লাগছে। 'সেফটি বুটস' তার নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু একটা নির্গত করছে।

লিফটে আরেকজন ছিলেন। তাই ওখানে চেক করা গেল না। বিদঘুটে পরিস্থিতি। তবে লিফট থেকে বের হতেই ধরা পড়ে গেলাম এক সহকর্মী বড় আপার কাছে। করিডোরে কিছুদূর হেঁটে যেতেই তিনি ধরে ফেললেন আমাকে। বললেন, ঝকঝকে ফ্লোরটার একী অবস্থা করলি?

আমি ফ্যাকাশে মুখে দেখলাম, চায়ের দানা সাইজের বা কালোজিরা টাইপ কিছু চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে ডান পায়ের 'সেফটি বুট' থেকে। বাম পায়েরটা নিশ্চুপ। সহকর্মী আপা অবশ্য অতটা বুঝতে পারেননি। উনি সম্ভবত ধরে নিয়েছেন কাদা বা বালি লেগে আছে আমার জুতায়।

লজ্জায় ভেতরে ভেতরে ঘেমে উঠলাম। আশপাশে ক্লিনার কাউকে খুঁজে পেলাম না। অবস্থা বিবেচনায় এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির মাধ্যমে যাচাই করতে দ্রুত ঢুকে পরলাম টয়লেটে। ডান পায়ের সেফটি বুট তুলে যা বুঝলাম- এটার সোল/হিল বহু আগেই ক্ষয় হয়ে গেছে। সেটাকে নিখুঁতভাবে ঢেকে দেয়া হয়েছে টায়ারের গুঁড়ো, কালো রঙ আর আঠা দিয়ে। তারপর 'ময়নার বাপকে' নকল সোলের আকৃতি দিয়ে চতুর বিক্রেতা অপেক্ষায় ছিলো আমার মতো 'মুরগী' ধরার আশায়। নকল হলেও এই হস্তশিল্প প্রশংসার দাবি রাখে। তাই রাতের অন্ধকারে কেনার সময় একদম টের পাইনি। এখন হাঁটা শুরু করায় আঠার প্রলেপ ভেঙে ভেতরে দেয়া টায়ারের গুঁড়ো হাসতে হাসতে বের হয়ে আসছে!

অঘটনের ঘনঘটায় ঘড়িতে সময় তখন দুপুর আড়াইটা। বিকেল ৩টায় ইভেন্ট। জুতা মেরামতের সময় নেই। অফিসে কোনো স্পেয়ার জুতাও ছিলো না। কোনো রকমে ইউনিট গুছিয়ে ডেইলি স্টার বিল্ডিংয়ে সর্বরোগের প্রাকৃতিক মহৌষধ কালোজিরা ছিটাতে রওনা হলাম!

25/01/2025

ঢাকা মেডিকেলের এক্স-রে বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। চারপাশে তুমুল হট্টগোল! টিসিবির লাইনের মতো কিছু লোকজন টোকেন হাতে অপেক্ষারত রঞ্জনরশ্মির আশায়। কেউ আবার এক্স-রে রুমের দরজা ধাক্কা-ধাক্কি করে লাইন ছাড়াই ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছে। বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রোগী ও রোগীর স্বজন-বাচ্চাকাচ্চায় ভরপুর। রোগী হয়তো একজন। সঙ্গে স্বজন ৩/৪ জন। বিরাট হাউকাউ চলছে।

এরমধ্যেই এক্স-রে বিভাগের একজন মাঝবয়েসী নারীকর্মী ভেতর থেকে বাইরে এসে একটু পর পর সবাইকে ধমকাধমকি করছেন। তার কাছে কেউ কেউ এক্স-রে করার টোকেন জমা দিতে চাইছে। উনি কিছুতেই কাগজ জমা নিতে রাজি হচ্ছেন না! অজুহাত দিচ্ছেন- ভেতরে আগে থেকেই অনেক সিরিয়াল জমা পড়ে আছে।

এরমধ্যে আমি নিরীহ মুখে হাজির হলাম। নিরীহগোছের আমাকে অবশ্য 'ধমক আপা' বকা-টকা দিলেন না। স্বাভাবিক সুরেই বললেন, পেশেন্ট কে? আপনি? এক্স-রে করবেন? বললাম- জ্বী। হাত দিয়ে দেখিয়ে বললেন, এই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ুন বাবা।

আমি বিগলিত ভঙ্গিতে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লাম। ৫ মিনিট, ১০ মিনিট, ৪৫ মিনিট। লাইনে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর দীর্ঘশ্বাস বাড়ছে। এক্স-রে রুমের দরজা পর্যন্ত যেতে পারছি না। এরমধ্যেই দু'য়েকজন পানি পান/টয়লেটে যাবেন- এমন সস্তা অজুহাতে 'ধমক আপা'কে কাগজ গছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেন। লাভ হলো না। উল্টো ধমক খেয়ে 'তাদের পানি' জায়গায় বের হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা!

কিছুক্ষণ আগেই বারবার নাম ভুল করায় ‘টিকিট আপা’র সাথে দৌঁড়ঝাঁপ করতে হয়েছে। (আগের স্ট্যাটাস দ্রষ্টব্য) দিনের ধৈর্যক্ষমতা ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে। ঘণ্টাখানেক পর আর পরিস্থিতি সামাল দেয়া গেল না। কিছু উত্তেজিত জনতা সিরিয়াল ভেঙে দরজা ধাক্কা দিয়ে ঢুকে পড়লেন এক্স-রে রুমে। তাদের পিছু পিছু আমিও।

ধমক আপার কোনো ধমকাধমকিতে আর কাজ হলো না। উপস্থিত সবার কাগজ জমা নেয়া হলো। ৫ মিনিটের মধ্যে সিরিয়াল পেলাম। আমার এক্স-রে কার্যক্রম শুরুর মুহূর্তেই ট্রলি স্ট্রেচার ঠেলে রুমে ঢোকানো হলো আরেকজন নারী পেশেন্টকে। বেশ বয়স্ক। ইউরিন ব্যাগ লাগানো। মনে হলো উনাকেই আগে সুযোগ দেই।

উনাকে স্ট্রেচার থেকে এক্স-রে প্যাডে নিতে গিয়ে ব্যাগ থেকে ইউরিন লিকেজ হলো ট্রলি স্ট্রেচারে। ইউরিন ছড়িয়ে পড়লো বেডে, মেঝেতে। সঙ্গে অ্যাটেন্ডেন্ড মাত্র একজন। এমন অবস্থার পেশেন্টকে একজনের পক্ষে দু’পাশ থেকে ধরে ওঠানামা করানো মুশকিল। আমি গিয়ে কিছুটা সাহায্য করলাম।

যাই হোক। উনার এক্সরে শেষে এবার আমার পালা। আমাকে অবশ্য এক্স-রে প্যাডে উঠতে হলো না। হাত ও ঘাড়ের এক্স-রে দাঁড়ানো অবস্থাতেই পেছনের আরেকটি মেশিনে করা হয়। ‘ধমক আপা’ আমাকে নিয়ে এবার ফা*য়ারিং স্কোয়াডের মতো এক টার্গেটে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বললেন- মোবাইল-মানিব্যাগ নিজ দায়িত্বে রাখেন। আর হাত উঁচু করেন। আমি হ্যান্ডসআপের ভঙ্গিতে হাত তুললাম। উনি বললেন, আহহা, এভাবে না; যেই হাতে আ*ঘা*ত লেগেছে সেটা তুলুন। তুললাম। এরপর দূর থেকে আরেকজন টেকনেশিয়ান রঞ্জনরশ্মি ফা*য়ার করলেন। এমন আরও কয়েকদফা অঙ্গভঙ্গি ও কসরৎ শেষে কার্যক্রম সম্পন্ন হলো।
এক্স-রে রিপোর্ট কালকে দেয়া হবে। যদিও অনেকে সেদিনই এক্স-রে রিপোর্ট নেয়ার জন্য ধমক আপার সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লেন। আপাও তার নামের প্রতি সুবিচার করে চলেছেন যথারীতি।

আমি সুবোধ বালকের মতো পরদিন রিপোর্ট নিতে এলাম। এক্স-রে রুমের আগেই ডেলিভারি কাউন্টার। বিকেল সাড়ে ৩টার মতো বাজে। ভিড় তেমন নেই। ৪/৫ জন হবে। সবাই রিসিট দেখিয়ে খামে ভরে রিপোর্ট নিচ্ছে।

আমি রিসিট দিলাম। কাউন্টারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি সিরিয়াল নম্বর অনুযায়ী, দুটো এক্স-রে কার্ড আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন। আমি বললাম- এভাবে কিভাবে? খামে ভরে দিন।

কাউন্টারম্যান বললেন- ঢাকা মেডিকেলে খামের সাপ্লাই নেই। তাই কাউকে খাম দেয়া যাচ্ছে না।

আমি বাকিদের দেখিয়ে বললাম- উনারা তো খামে ভরে রিপোর্ট নিচ্ছে। আমাকেও অমন একটা দিন।

কাউন্টারম্যান বললেন- উনাদেরকেও দেয়া হয় নাই। সবাই যে যার খাম কিনে এনেছেন।

এক্স-রে রিপোর্ট নিতে আসা এক মহিলা সায় দিয়ে কথা টেনে টেনে বললেন- এহ্, আমরা বাইরেত্তে ১৫ টাকা দিয়া খাম কিন্না আনছি।

সন্দেহ হলো, এখানে সাপ্লাই ইচ্ছা করেই বন্ধ রাখা হয় কি-না। তাহলে হাসপাতালের গেটে খাম বিক্রির জমজমাট ব্যবসাটা নেহায়েত মন্দ নয়! দুই হাতে দুই এক্স-রে কার্ড নিয়ে ভাবছিলাম- এভাবেই হাঁটা দিবো কি-না? হঠাৎ কী মনে করে কাউন্টারম্যান তার সহযোগী একজনকে বললেন- ভাইজানকে ওই লাল বক্সটা দিয়ে দে তো…বক্সে ভরে নিয়ে যাক। কাউন্টারম্যান দাঁত বের করে বললেন- এসব বক্স কাউকে দেই না। আপনাকে দিলাম…সহি সালামতে নিয়া যান…

আশপাশের লোকজন কিঞ্চিৎ ঈর্ষান্বিত সরু চোখে আমার দিকে তাকালো। নিজেকে কিছুটা ভাগ্যবান অনুভব করলাম। আসলেই তো, বক্সে করে এক্স-রে রিপোর্ট কার্ড নেয়ার সৌভাগ্য ক’জনের হয়?

** বক্সের ছবি প্রথম কমেন্টে। সেখানে আবার আমার নামের সঙ্গে FA যুক্ত করা! AGFA!

24/01/2025

ঘটনার আকস্মিকতা তখনও কাটেনি। বুঝতে পারছিলাম না- ১১ ডিসেম্বর রাতে ৩০/৪০ সেকেন্ডে ঠিক কী থেকে কী কারণে এসব ঘটলো? এরমধ্যে ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। নিজের মধ্যে চিন্তা-ভী*তি-আ*ত*ঙ্ক-প্রশ্ন সব জট পাকিয়ে যাচ্ছিলো!

দুই হা*ম*লাকারীর ধারালো অ*স্ত্রের আঘাত যেখানে যেখানে লেগেছে...হাতে, ঘাড়েসহ সেসব জায়গায় র*ক্ত জমাট বেঁধে ফুলে উঠেছে ততক্ষণে। কালশিটে দাগও পড়েছে। তীব্র ব্যথা শুরু হলো। ভেতরে কতটা ইন*জুরড সেটাও নিশ্চিত নই। হুট করেই গেলাম ঢাকা মেডিকেলে। ইমার্জেন্সিতে ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলে ওরা ট্রিটমেন্ট দেয় না। আউটডোরে যেতে হবে।

অর্থোপেডিক শাখার টিকেট কাউন্টার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশের গেট দিয়ে ঢুকলেই হাতের বামে। কাউন্টারে তখন ২/৩ জনের সিরিয়াল। সকাল ১১টা বাজছে ঘড়িতে। বেশি সময় লাগলো না। নাম-বয়স বলে টিকিট নিয়ে চলে এলাম অর্থোপেডিক শাখায়। সেখানেও তেমন চাপ নেই। ম্যাজিকের মতো সব হয়ে যাচ্ছে। তীব্র সন্দেহ হলো, যার জীবনে কোনোকিছুই সহজে হতে চায় না। এখন এতো সহজ হচ্ছে কী করে? নিশ্চিত ঝামেলা বাঁধবেই। তবে কোনদিক থেকে আসে- তার অপেক্ষামাত্র!

অর্থোপেডিক সার্জারি (রুম-১৬) শাখায় চারজন ডাক্তার। তিনজন পেশেন্ট দেখছেন। বাকি একজন পায়ের ওপর পা তুলে গম্ভীর মুখে মোবাইল চাপছেন। চেহারা, ভাবভঙ্গিতে স্পষ্টত 'উনি সিনিয়র'। আমি তার পাশের টেবিলে তুলনামূলক সহনশীল চেহারা বিবেচনায় একজন তরুণ ডাক্তারের কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। তরুণ ডাক্তার বললেন, কী সমস্যা? জ্যাকেট আগেই খুলে হাতে রেখেছিলাম। টি-শার্ট সরিয়ে আঘাতের স্থানগুলো দেখালাম। দেখেই ডাক্তারবাবু বললেন- কেউ আ*ঘা*ত করেছে?

বললাম- জ্বী। ধারালো অ*স্ত্রের আ*ঘা*ত। কাটেনি তেমন। তবে র*ক্ত জমাট বেঁধে গিয়ে প্রচণ্ড ব্যথা করছে...

তরুণ ডাক্তার মাথা নেড়ে বললেন, ইমার্জেন্সিতে যাওয়া উচিত ছিলো। যাননি কেন? এটা তো পুলিশ কেইস হবে...এখন কী করা যায়! কিছুটা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে তিনি পাশের সেই পা নাচানো সিনিয়রকে বললেন- স্যার, এটা কী করবো? এটা তো সিরিয়াস কেইস মনে হচ্ছে...

আমি ধরে নিলাম, দ্য ঝামেলা হ্যাজ বিগেইন...

কিন্তু মোবাইলে গভীর মনোযোগে ডুবে থাকা সিনিয়র ডাক্তার আমাকে হতাশ করলেন। আরও কয়েকদফা পা নাচিয়ে বললেন- পুলিশ কেইস হলে হোক। তুমি তোমার ট্রিটমেন্ট ইস্যু করে দাও। তরুণ ডাক্তার আর কথা না বাড়িয়ে খসখস করে আমার দেয়া আউটডোর টিকিটে কিছু লিখে দিয়ে বললো- অমুক নম্বরে (নম্বর ঠিক মনে নেই) চলে যান!

অমুক নম্বর কাউন্টার বেহুলা-লক্ষীন্দরের বাসরঘরের মতো! চারপাশ লকড। দু'পাশে দুটো ছোট ছোট উইন্ডো। একটা উইন্ডো দিয়ে কাগজপত্র ভেতরে দিলাম। ভেতরে থাকা বেহুলা আপা কাগজ দেখে ভ্রুঁ কুঁচকে বললেন, আপনার নামটা এমন কেন?

আমি নাম বলার পর উনি তার পাশে থাকা লক্ষ্মীন্দরকে বললেন- দেখেছেন কী অবস্থা? উনার নাম কী- আর টিকিটে কী লিখে দিয়েছে! লক্ষ্মীন্দর বাবু কিছু বলার আগেই আমি বেহুলা আপাকে বললাম- দিন তো কাগজটা। কী লিখেছে দেখি...

কাগজ হাতে নিয়ে দেখি নামের জায়গায় লেখা Asdugffgamn। আমি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জার্মানি থেকে অক্ষশক্তির উদ্দেশে পাঠানো এই 'এনিগমা' কোডের দিকে!

বললাম- উনি ভুল করেছে। এখন আপনারা এক্সরে কাগজ ইস্যুর আগে নামের বানান ঠিক করে দিন। বেহুলা আপা বললেন- উনাদের কিছুই করার নেই। টিকিটের নম্বর ও সেখানে থাকা নাম অনুযায়ী পেশেন্টের ডিটেলস এন্ট্রি হবে।

চাঁদ সওদাগরের মতো পরিস্থিতি আমার। লোহার খাঁচা বানিয়েও শেষরক্ষা হলো না। ভাবলাম, ঠিক করে নিয়ে আসি। আবার ছুটলাম অর্থোপেডিক টিকিট কাউন্টারে। এবার গিয়ে দেখি ১০/১২ জনের লাইন। অথচ দাঁড়ানোর সময় নেই। আউটডোর বন্ধ হয়ে যাবে। তাই সিরিয়ালে না গিয়ে কাউন্টারে গিয়ে টিকিট আপাকে বললাম- নামের স্পেলিং ভুল হয়েছে। সংশোধন করে আরেকবার প্রিন্ট দিন। উনি আগের টিকিট হাতে নিয়ে বললেন, কী লিখবো বলেন? নামের প্রতিটা বর্ণ ধীরে ধীরে জোরে উচ্চারণ করে উনাকে বললাম। উনি টাইপ করে প্রিন্ট দিলো। এবার নাম এসেছে Assadujjmn।

বললাম, এবারও হয়নি। আবার বানান বলছি, ঠিকভাবে লিখুন। আমার পেছনে লাইনে থাকা লোকজন কিছুটা বিরক্ত। খুবই স্বাভাবিক! সিরিয়াল ব্রেক করে আমি সংশোধনের কাজ করছি। উনারা যে হাউকাউ বাঁধাচ্ছেন না- এটাই আশাতীত!

আবার উচ্চারণ ধরে ধরে নামের বর্ণগুলো বললাম। টিকিট আপা খুব মনোযোগী ভঙ্গিতে লিখে প্রিন্ট দিলেন। কিন্তু এবার নতুন বিপত্তি!

প্রিন্টার থেকে কাগজ বের হচ্ছে না! এই অপরাধে প্রিন্টারকে কয়েকবার চড়-থাপ্পর দিলেন টিকিট আপা। কিন্তু প্রিন্টার ভাই টপকে গেছেন। উনি মাঝেমাঝে বিদঘুটে আওয়াজ করছেন। কিন্তু কাগজ আর বের করছেন না। পেছনে লাইনে থাকা লোকজন ততক্ষণে মহাবিরক্ত। কেউ কিছু বলছে না ঠিকই, তবে উশখুশভাবটা টের পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতির সব দায় স্বীকার করে আমার তখন পদত্যাগ করার অবস্থা!

অবশেষে এক মহামানবের আবির্ভাব। বোঝা গেল তিনি টিকিট আপার জনৈক কলিগ। আমাদের ত্রাণকর্তা। তিনি প্রিন্টার খুলে আটকে যাওয়া এনিগমা কোডসমেত কাগজ টেনে হিচড়ে উদ্ধার করলেন। এদিকে টিকিট আপা নির্বিকার। যেন এমনটাই হওয়ার কথা!

চতুর্থবারের মতো আমার টিকিট প্রিন্ট হলো। আমি কাগজটা হাতে নিয়ে কাউন্টার থেকে সরে এলাম। আরেকটু দাঁড়ালে সিরিয়ালে থাকা লোকজন আমাকে কী করতো বলা মুশকিল!

ধরেই নিয়েছিলাম- এতো ঝঁক্কিঝামেলার পর এবার উনি নামটা ঠিকঠাক লিখেছেন। কিন্তু আমার সব ধৈর্যের বাঁধ ও বিশ্বাস একযোগে ভেঙে চুরমার করলেন টিকিট আপা!

অবশেষে পঞ্চম দফা প্রিন্টে নাম ঠিকঠাক এলো! ততক্ষণে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। ছুটলাম আবার অর্থোপেডিক শাখায়। এখানেও এবার সিরিয়াল। 'খুব জরুরি' বলে গেটকিপারকে অনুরোধ করে নতুন টিকিট নিয়ে হাজির হলাম সেই তরুণ ডাক্তারের কাছে। উনি আবার আমাকে দেখে ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালেন। গম্ভীর মুখে বললাম- আগেরবার টিকিটে পেশেন্টের নামে স্পেলিংয়ে ঝামেলা ছিলো। তাই নতুন টিকিট নিয়ে এসেছি। যদি আরেকবার লিখে দিতেন...

ডাক্তার আমার দিকে তাকিয়ে কী বলবে যেন বুঝে উঠতে পারলো না। মনে হলো, এমন আবদার এই জীবনে এর আগে কেউ করেনি তার কাছে। হতবাক চোখে একটা নিঃশ্বাস ফেলে চুপচাপ আগের মতো করে সব লিখে দিলেন টিকিটে!

পাশে তখনও যথারীতি মোবাইল চাপছিলেন সেই সিনিয়র ডাক্তার। হঠাৎ পায়ের ওপর তোলা পায়ের 'নাচন' থামিয়ে গেটকিপারের উদ্দেশ্যে হাঁক ছাড়লেন- অ্যাই, আজকে সময় শেষ! রোগী নেয়া বন্ধ করো। আউটডোর ক্লোজ!

ঢাকা মেডিকেলে আসার আগ পর্যন্ত 'যন্ত্রণা' ছিলো 'শারীরিক'। আসার পর বাড়তি পাওনা হলো 'মানসিক'। শেষপর্যন্ত এক্সরে করা হবে তো?

Address

Dhaka
1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Argentum posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Argentum:

Share