B-B-Bolt

B-B-Bolt only for entertainment... Please like this page

07/12/2025

23/11/2025


মজার ভিডিও

03/11/2022

মানুষ এর অবস্থা দেখে খুবই কষ্ট লাগলো। ডিজিটাল দেশেও গরীব মানুষ আছে ভাবতেই পারিনা

সারা রাত শ্রাবণীর(আমার গার্লফ্রেন্ড) সাথে কথা বলার পর শেষ রাতের দিকে একটু ঘুমিয়েছি। কিন্তু সকাল সকাল দাদী ডাকতে লাগলো।আম...
23/10/2022

সারা রাত শ্রাবণীর(আমার গার্লফ্রেন্ড) সাথে কথা বলার পর শেষ রাতের দিকে একটু ঘুমিয়েছি। কিন্তু সকাল সকাল দাদী ডাকতে লাগলো।আমি ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দাদীকে বললাম,
-- ঐ বুড়ি,, সমস্যা কি তোর?? এত সকাল সকাল ডাকছিস কেন?
দাদী মুখ বাকিয়ে বললো,
~এত বেলা পর্যন্ত ঘুমাস কেন? তোর তো বউ নাই যে সারারাত লুডু খেলেছিস তাই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে পারছিস না।

আমি দাদীকে বললাম,
-- দাদী তোমার বাবা যেন কি করতো??
দাদী চেহারাটা মলিন করে বললো,
~ আমার বাপ অন্যের জমি বর্গা দিতো। ইসসস বাপজান আমাদের নিয়ে ভোর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কি যে পরিশ্রম করতো

এইবার আমি দাদীকে বললাম,
~ বুড়ি,তোর বাপ ফকির ছিলো তাই তুই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠিস আর আমার বাপ বড়লোক তাই আমি ১২ টা বাজিয়ে ঘুম থেকে উঠবো। এখন আমার রুম থেকে যা, তা না হলে তোর সাথে লুডু খেলা শুরু করবো..

দাদী আমার কথা শুনে মুখ বাঁকিয়ে ভেংচি দিয়ে চলে গেলো....

ছোটবেলা থেকে আমি দাদীর কাছেই মানুষ হয়েছি। বাবা মা চাকরি করার কারণে আমায় তেমন সময় দিতে পারতো না। দাদী আমাকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে।

দাদীর সাথে আমার সম্পর্কটা টম আর জেরির মত। সারাক্ষণ আমরা একজন আরেকজনের পিছনে লেগে থাকি। আমার বন্ধু বান্ধব মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যায় আমার আর দাদীর ১৮+ কথা বার্তা শুনে।

রাতে দাদীর রুমে ঢুকে দেখি দাদী খাটটা পরিষ্কার করছে। এই খাটে দাদা থাকতো। ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি দাদী এইখানে না ঘুমিয়ে নিচে ফ্লোরে ঘুমায়। আমি দাদীকে অনেক বলেছি,
হয় তুমি এই খাটে ঘুমাও না হয় অন্য খাটে। তুমি শুধু শুধু ফ্লোরে ঘুমাও কেন?

দাদী কিছু বলতো না শুধু মুচকি মুচকি হাসতো। তাই আজ দাদীকে খুব চেপে ধরলাম।
দাদীকে বললাম,
-- তোমাকে আজ বলতেই হবে তুমি খাটে ঘুমাও না কেন?

দাদী মুচকি হেসে বললো,
~ তোর দাদা খুব সৌখিন মানুষ ছিলো। তোর দাদা যতদিন বেঁচে ছিলো ততদিন এই খাটে আমার জায়গা হয় নি।
আমি বললাম,
-- দাদী, দাদা তো বেঁচে নেই তাহলে এখন খাটে ঘুমালে সমস্যা কি?
দাদী বললো,
~ তোর দাদা বেঁচে থাকতেই যেহেতু আমার খাটে জায়গা হয় নি তাহলে এখন আর খাটে শুয়ে মায়া বাড়াতে চাই না।

দাদীর কথা শুনে মনে হচ্ছিলো দাদীর মনটা খুব খারাপ হয়ে গেছে। তাই দুষ্টামি করে দাদীকে বললাম,
-- আচ্ছা বুড়ি, দাদা তো তোমাকে খাটেই জায়গা দিতো না তারপরেও তুমি ৩ সন্তানের মা হলে কিভাবে? এজন্যই তো বলি আমার ছোট চাচার চেহারার সাথে আমার ছোট দাদা রহিম মিয়ার এত মিল কেন। বুড়ি তুই তলে তলে টেম্পো চালাতি আর দাদা জানতে চাইলে তুই বলতি হরতাল...

দাদী আমার কথা শুনে রাগে জর্দার কৌটা আমার দিকে ছুড়ে মারলো। আর আমি হাসতে হাসতে দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে আসলাম।
|
|

বেলা ১০ টা এখন পর্যন্ত দাদী আমায় ডাকতে আসলো না। আমার ২৫ বছর জীবনে এই প্রথম দাদী আমায় সকালে ডাকে নি। তারমানে দাদীর কিছু হয়েছে। শুয়ে থেকে আমি এইসব কি চিন্তা করছি। এক লাফে বিছানা থেকে উঠে দৌড়ে দাদীর রুমে গেলাম। রুমে গিয়ে দেখি দাদী কান্না করছে। আমি দাদীর কাছে গিয়ে বললাম,
-- দাদী কি হয়েছে তোমার? তুমি কাঁদছো কেন?
আমার কথা শুনে দাদী বললো,
~ কার জন্য আবার, আমার জামাইয়ের জন্য কাঁদি। ঐ বুইড়া জীবিত থাকার সময় আমায় শান্তি দেয় নি আর মরে গিয়েও আমায় শান্তি দিচ্ছে না।
আমি অবাক হয়ে দাদীকে বললাম,
-- দাদা আবার তোমায় কি করলো?
দাদী কাঁদতে কাঁদতে বললো,
~মাঝরাতে হঠাৎ করে আমার ঘুমটা ভেঙে যায়। মনে মনে ভাবলাম এইজীবনে তো কোনদিন তোর দাদার এই খাটে তে ঘুমালাম না। আজ না হয় একটু ঘুমায়। খাটে শুয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম জানি না। শেষ রাতের দিকে একটা স্বপ্ন দেখলাম। তোর দাদা এসে আমায় বলছে, "মাগী ( আগের দিনে গ্রাম বাংলার মানুষ রেগে গিয়ে স্ত্রীকে এই নামে গালি দিতো) তোর এত বড় সাহস তুই আমার খাটে ঘুমিয়েছিস।" এই বলে তোর দাদা আমার পিছনে লাথি মারে আর আমি সোজা খাট থেকে গড়িয়ে পড়ি। এখন আমার সারা শরীরে ব্যাথা...

আমি দাদীর কথা শুনে প্রচন্ড হাসতে লাগলাম আর দাদী বলতে লাগলো,
~আমি এই খাট আর আমার কাছে রাখবো না। তুই যেদিন বিয়ে করবি সেদিন তোকে এই খাট আমি উপহার হিসেবে দিয়ে দিবো..
|
|
তার বেশ কয়েকদিন পর আমার আর শ্রাবণীর বিয়ে হলো।
দাদীর ইচ্ছেতেই দাদার খাটের উপর আমাদের বাসর রাত হলো। শুনেছি বাসর রাত মানে মধুর রাত কিন্তু আমার বাসর রাত হয়েছিলো নিমপাতার চেয়েও তেতো।

খাটের উপর শ্রাবণী বসে ছিলো। আমি রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে খাটের উপর বসা মাত্র খাট ভেঙে নিচে পরে গেছি। অনেক পুরাতন খাট। গুনে খেয়ে সব শেষ করে দিয়েছে। এখন যদি সকালে লোকজন দেখে খাট ভাঙা তাহলে কি না কি ভাববে তাছাড়া দাদী কান্না করে পুরো এলাকার মানুষকে জানাবে।

সারারাত আমি আর শ্রাবণী খাট ঠিক করতে করতে কাটিয়ে দিলাম কিন্তু খাট আর ঠিক হলো না। খাট যখন ঠিক করছিলাম তখন শ্রাবণীর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা হচ্ছিলো। ওর কপালে লেগে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখে আমি আবার ওর প্রেমে পড়ে গেলাম। খুব ইচ্ছে করছিলো ওর কপালে আমার আঙুল ছুঁয়ে দিতে। কিন্তু এখন যদি ওকে স্পর্শ করি তাহলে ও আমার মাথা ফাটিয়ে ফেলবে। এমনিতেই ও রাগে লাল হয়ে আছে।
|
|

৩০ মিনিট ধরে দাদী দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ডাকছে কিন্তু আমি লজ্জায় দরজা খুলতে পারছি না। খুলবো কি করে খাট তো ভাঙা ঠিক করতে পারি নি।।

অবশেষে দরজা খুললাম। দাদী রুমে ঢুকে খাট দেখে যখনি চিৎকার দিবে তখনি দাদীর মুখ চেপে ধরে বললাম,
-- দাদী, খাট দাদা ভেঙেছে। স্বপ্নে দাদা এসেছিলো। দাদা এসে দেখে আমি আর তোমার নাত বউ খাটে শুয়ে আছি। তখন আমাদের খাট থেকে লাথি দিয়ে ফেলে দেয় আর রাগে নিজের খাট নিজে ভেঙে ফেলে।

দাদী আমার কথা শুনে অবাক হয়ে বললো,
~ বলেছিলাম না এই বুইড়া মরার পরেও আমার পিছন ছাড়ে নি। তুই তো বিশ্বাস করতি না এখন দেখলি তার প্রমাণ...

দাদী মনে হয় আমার কথা বিশ্বাস করেছে। আমি কোন রকমে লজ্জার হাত থেকে বাচলাম তাকিয়ে দেখি শ্রাবণী মাথা নিচু করে মুচকি মুচকি হাসছে...

#দাদার_খাট

Collected

13/10/2022

যে যে অবস্থায় আছি। সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলি

10/10/2022
04/10/2022

#প্রেক্ষাপট_১
উচ্চ বেতনে চাকুরি করা এক যুবক আরেক গরীব যুবককে প্রশ্ন করলো,
- তুমি কোথায় চাকুরি করো?
- একটা কোম্পানিতে ।
- স্যালারি কতো?
- ১০০০০ টাকা।
- মোটে দশ হাজার? চলো কিভাবে? তোমার মালিক তোমার প্রতি অবিচার করছে। তুমি যেই ছেলে তোমার যা যোগ্যতা,তাতে হেসেখেলেই তুমি অনেক টাকা বেতন পেতে পারো।
যুবকের মেজাজ খাট্টা হয়ে গেলো। নিজের কাজের প্রতি ও বসের প্রতি
বেজায় রুষ্ট হয়ে উঠলো। পরদিন গিয়ে সরাসরি বসকে বেতন বাড়ানোর কথা। জানালো। কথা কাটাকাটি হওয়ার একপর্যায়ে বস তাকে চাকরিচ্যুত করলো।
এখন যুবকটি বেকার।
#প্রেক্ষাপট_২
- তোমার প্রথম সন্তান হলো বুঝি?
- জ্বি।
- তোমার স্বামী এ উপলক্ষ্যে তোমাকে কিছু দেয় নি? উপহার, টাকা বা এ জাতীয় কিছু?
- না। কেন দিবে? এ তো আমাদেরই সন্তান! উপহার বা টাকা দিতে হবে কেন?
- কেন তোমাকে হাত খরচার জন্যেও তো দু’চার পয়সা দিতে পারে। তার কাছে কি তোমার কোনও মূল্য নেই? তুমি চাকরানি?
স্ত্রীর মনে ধরলো কথাটা।
সারাদিন কথাটা ভাবতে ভাবতে মনটা বিষিয়ে উঠলো। সত্যিই তো! আমাকে একটা টাকাও কখনো ছোঁয়ায় না! রাতে কর্মক্লান্ত স্বামী ঘরে ফিরলো।
স্ত্রীর মুখ দিয়ে বোমা বিস্ফোরিত হলো। রেগে গেলো দু’জনে, কথা কাটাকাটি ঝগড়া আর ঝগড়া। পরে হাতাহাতি, শেষ পর্যন্ত তালাকে গিয়ে গড়ালো।
#প্রেক্ষাপট_৩
- এই বৃদ্ধ বয়েসে কষ্ট করছেন? ছেলে ঢাকায় থাকে,বড় চাকুরি করে শুনেছি। মস্ত বড় ফ্ল্যাটে বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকে। আপনাদের দু’জনকে সাথে নিয়ে যেতে পারে না? আপনাদের দেখতেও তো আসে না!
- না না, ছেলে আমার খুবই ব্যস্ত। টাকা পাঠায় তো। ফোনে ও খোঁজ-খবর নেয় নিয়মিত।
- কী এমন ব্যস্ততা তার শুনি? নিজের জন্মদাতা-জন্মদাত্রীকে দেখতে আসার সময় হয় না?
- সারাদিন অফিস-বাসা করতে করতেই তো তার সবটা সময় চলে যায়!
- আপনি খোঁজ নিয়েছেন? সে ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি হাঁকিয়ে বেড়াচ্ছে।
আর আপনারা অজপাড়াগাঁয়ে ধুঁকছেন?
বৃদ্ধ বাবা বাসায় এসে স্ত্রীকে খুলে বললো।
স্ত্রীও বাধা দিল,
- আপনি ভুল শুনেছেন। সে আসলেই ব্যস্ত।
- নাহ,সেকি কি মিথ্যা বলতে পারে ?
আহা রে! কাকে বুকের রক্ত পানি করে বড় করলাম। এটা ভেবেই করে বসলেন ব্রেইন স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক!
# এবার_আসি_মূলকথায়
-কিছু নিরীহ-অযাচিত প্রশ্ন আমাদের সুখী জীবনকে ক্ষণিকের মধ্যেই দুঃখী করে দিতে সক্ষম।
-আমাদের সমাজে ছদ্মবেশী দরদীরা নিরন্তর শান্ত জীবনে অশান্তির দাবানল জ্বালিয়ে

দুধের বাচ্চা নিয়ে বাসরঘরে বসে আছি। অনেকে বলেছিল বাচ্চাকে মা চাচিদের দিয়ে দিতে। বাসর রাত বলে কথা৷ কিন্তু রাজি হয়নি। বাচ্চ...
30/09/2022

দুধের বাচ্চা নিয়ে বাসরঘরে বসে আছি। অনেকে বলেছিল বাচ্চাকে মা চাচিদের দিয়ে দিতে। বাসর রাত বলে কথা৷ কিন্তু রাজি হয়নি। বাচ্চাটা একটু থেকে একটু হলেই কান্না করে দেয়। যে শান্ত করতে পারতো সে এখন আমার উপর সব দায়িত্ব দিয়ে কবরে আরাম করে ঘুমিয়ে আছে। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। এটা আমার দ্বিতীয় বিয়ে৷ আমার এখনের স্বামির নাম ফারাবী। ঘরোয়াভাবেই বিয়েটা হয়েছে আজ আমাদের। আত্মীয় স্বজন বেশি নেই। গোটা বিশেক লোক হবে এসেছে।

মাত্র আমার মেয়েটা ঘুমালো। একটু পরই ফারাবী এসে ঢুকলেন রুমে। দরজা মারলেন নিঃশব্দে। আমি পা দুটো আরো গুটিয়ে নিয়ে মেয়েটাকে আরেকটু জোরে জাপটে ধরলাম। তিনি এসে বসলেন আমার কাছে। আমি মাথা নিচু করে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছি। কতক্ষণ নীরব থাকার পর তিনি বললেন, জানেন তো আমাদের দুজনেরই এটা দ্বিতীয় বিয়ে? আমি মাথা নাড়লাম। তিনি তাচ্ছিল্যের সুরে বললেন, কেন আমার স্ত্রী ছেড়ে গেছে এটা জানেন? আমি আবারও হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লাম। তিনি মৃদু হেসে বললেন, আমাদের সাত বছরের প্রেম আর এক বছরের সংসার জীবন ছিল। কিন্তু আমাদের সবটা প্রেমই রয়ে গেল ভালোবাসা হয়ে ওঠেনি। আমি তাকে মাতৃত্বের সুখ দিতে পারব না জেনেই ছেড়ে চলে গেল। আমি চুপ করে রইলাম।

- কি নাম ওর?

- মাইশা।

- বাহ্, অনেক সুন্দর নাম তো।

- ওর বাবার দেওয়া।

- দেখতেও কি বাবার মতো হয়েছে?

- হুম।

- আমার কোলে দেবেন একটু?

এবার আমি তার দিকে তাকালাম। মুখে আকুতিভরা, চোখ পানিতে ভরে উঠছে। দিলাম তাঁর হাতে। মেয়ে আমার যদিও জেগে গিয়েছিল কিন্তু কাঁদলো না। ফারাবী খেলল কতক্ষণ তার সাথে। আর মাইশা হাসছে। আমি অবাক হয়ে তাদের দিকে আছি। তাকে মেহরাজ, আমার প্রাক্তন স্বামীর মতো লাগছে। খেলা শেষে ওকে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়াতে পাড়াতে বললেন, জানেন আমার মেয়ের খুব শখ ছিল। নুপুরকে বলতাম আমরা মেয়ে নেবো। কিন্তু বুঝতেই পারিনি সে ক্ষমতা আমার নেই। মাইশা না থাকলে হয়ত এ বিয়েটাও হতো না। কে জাইবে এমন ছেলের কাছে মেয়ে দিতে?

মাইশাকে পাশে শুইয়ে দিয়ে বললেন, আপনি ঘুমিয়ে যান। সারাদিন খাটুনি গেছে অনেক। বলে মাইশার পাশে শুয়ে পড়লেন। আমি তখনো তাকিয়ে আছি। তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে শুয়ে পড়লাম। গভীর রাতে হঠাৎ অজানা অনিশ্চিত ভয়ে জেগে উঠলাম। পাশে ফিরে দেখলাম মাইশা ঠিক আছে কি না। ফারাবী একহাত দিয়ে রেখেছেন মাইশার উপর। যেন ঘুম পাড়াতে পাড়াতে নিজেও ঘুমিয়ে গেছে। কি করে পরের মেয়েকে এত আপন করতে পারলেন!

সকালে চোখ খুলতেই দেখলাম মাইশা ফারাবী কেউই নেই। আমি ধড়মড় করে উঠে বসে আশেপাশে তাকাতেই বারান্দায় চোখ পড়ল। ফারাবী রকিং চেয়ারে বসে ঘুম পাড়াতে চাইছে মাইশাকে। আমি কাছে যেতেই বললেন, কান্না করছিল, আপনার ঘুম ভেঙে যাবে দেখে এদিকে নিয়ে এসে ঘুম পাড়াতে চাইছিলাম। দুষ্ট বাচ্চাটা কিছুতেই ঘুমাতে চাইছে না। আমি দেখলাম মেয়ে হাত দিয়ে ফারাবীর দাড়ি নিয়ে খেলছে৷ আমি ফিক করে হেসে দিলাম। তিনি বললেন, হাসছেন যে বড়?

- মেয়ের আমার আপনার দাড়ি পছন্দ হয়েছে।

- তা হয়েছে। ভাবছি আরো বড়ো করব দাড়ি মেয়ে যাতে খেলতে পারে। আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন।

আমি মুচকি হেসে ফ্রেশ হতে গেলাম। নাস্তা খেতে বসেছি। ফারাবী বললেন, আপনি বেলের আচার বানাতে পারেন? আমি বললাম, দেখেছিলাম। আমার প্রাক্তন শ্বাশুড়ি বানাতেন খুব ভালো। তার আচারের স্বাদই আলাদা ছিল। তিনি রুটিটা ছিঁড়তে ছিঁড়তে বললেন, আমার বেশ প্রিয় বেলের আচার।

- ঝোলটা আরেকটু দেবো?

- দিন। আপনার রান্নার হাতও বেশ ভালো।

আমি হেসে বললাম, রুটিটা একটু পুড়ে গেছে। তাও বলছেন? ফারাবী শেষটুকু খেয়ে বলল, ভালো হাতের পোড়া রুটিও অমৃত হয়। বলে উঠে চলে গেলেন মাইশার কাছে। মেয়েটা ঘুমাচ্ছে দোলনায়। মাথায় হাত বুলিয়ে ল্যাপটপটা খুলে পাশে বসলেন।

পরদিন থেকে অফিস। মাত্র তিন দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। বলতে গেলে পেয়েছেন আর কি। প্রথম বিয়ে হলে হয়ত সপ্তাহ খানেক ছুটি পেতেন। বের হওয়ার সময় জুতো পরতে পরতে বললেন, আমার খুব শখ ছিল কাজে যাওয়ার আগে বউয়ের কপালে ভালোবাসার চিহ্ন দিয়ে যাবো। কিন্তু নুপুরের কাছে এটা ন্যাকামি ছিল। তাই কখনো এই শখ পূরণ হয়নি। আপনারও কি অপছন্দ? আমি লজ্জায় নিচের দিকে তাকিয়ে না বোধক মাথা নাড়ালাম। তিনি হেসে আমার কপালে চুমু এঁকে দিলেন। তারপর বেরিয়ে গেলেন।

রান্না করতে করতে মেহরাজের কথা অনেক মনে পড়ল। মেহরাজেরও বেলের আচার অনেক প্রিয় ছিল। এক বসাতে একটা বয়াম শেষ করে ফেলে বলতো কাল বেল কিনে আনবো, মাকে বোলো তো আচার বানাতে। আমিও শিখেছিলাম। একবছর হলো ও নেই। তাই বানানো হয়নি আর। মাইশা যখন পেটে তিন মাস হবে তখনই হঠাৎ কার এক্সিডেন্টে চলে গেল না ফেরার দেশে। মেয়েটাকে দেখে যেতে পারেনি। আমরা নাম ঠিক করে রেখেছিলাম। ওর পছন্দের নামটাই দিলাম আকিকার সময়। কত ঝগড়া করেছিলাম নাম নিয়ে ওর সাথে! চোখ দিয়ে কয়েক ফোঁটা পানি গড়ালো। সেগুলো টুপ করে পড়ার আগেই ফোনটা বেজে উঠল। তাড়াতাড়ি গিয়ে দেখি ফারাবী কল দিয়েছেন। ধরতেই বললেন, কি করছেন? নাক টানছেন যে। কাঁদছিলেন নাকি? আমি নাকটা মুছে নিয়ে বললাম, পেঁয়াজ কাটছিলাম।

- ও, রান্না করবেন তাহলে। আমার মেয়ে কি করে?

- খেয়ে দেয়ে ঘুমাচ্ছে এখন।

- আমি তো দুপুরে এখানে লাঞ্চ করি। আপনার অসুবিধা হবে না তো?

- না সমস্যা নেই। আপনি খেয়ে নেবেন।

- আপনিও। কোনো ফাঁকিবাজি যাতে না করেন। খেয়ে তারপর কাজ থাকলে করবেন।

- আচ্ছা।

- রাখছি তাহলে?

- হুম

ফারাবী ফোন কেটে দিলেন। আমি রান্নাঘরে যেতে যেতে ভাবলাম, দুজন মানুষ কি করে একই হয়!

রাত আটটায় বেল বাজলো। আমি মাইশাকে কোলে নিয়ে টিভি দেখছিলাম। গিয়ে দরজা খুলে দেখলাম ফারাবী দাঁড়িয়ে আছেন। ঘেমে আছেন পুরোটা। আমি দরজা খুলতেই যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। সোফায় বসতেই ফ্যান ছেড়ে দিয়ে এক গ্লাস পানি এনে দিলাম। সেটা খেয়ে ফ্রেশ হতে গেলেন। আমি সোফায় বসে আছি। তিনি ব্যাগ থেকে পাঁচটা বকুল লতা বের করে বললেন, আম্মুর কাছে শুনেছি আপনার নাকি বকুল পছন্দ। তাই আনলাম। সে একটা লতা নিয়ে মাইশার হাতে লাগিয়ে দিয়ে বললেন, এটা আমার মেয়ের। বাকি চারটা লতা আমার খোঁপায় লাগিয়ে দিয়ে বললেন, আর এগুলো আমার মেয়ের আম্মুর। আমি লজ্জায় মুচকি হাসলাম। তিনি বললেন, লজ্জা পেলে আপনাকে দেখতে বেশ সুন্দর লাগে।

সাত মাস চলছে আমাদের সংসারের। ফারাবী বেশ খেয়াল রাখেন। আমার টুকটাক ভালো লাগাগুলো তিনি বেশ গুরুত্ব দেন। আর মাইশা বলতে পাগল। মেয়েটাও বাবার কোলে কোলে ঘুরে বেড়ায় যতক্ষণ বাসায় থাকে। অফিসে গেলেই মেয়ের কি কান্না! এখন হাঁটতে পারে একটু আধটু। কলিং বেলের শব্দ পেলেই সব ফেলে বসার ঘরে চলে আসে বাবার কোলে ওঠার জন্য। ভালোই কাটছিল। এর মধ্যে হঠাৎ তার প্রাক্তন স্ত্রী এসে হাজির। আমি তখন রান্নায় ব্যস্ত। প্রায় শেষ। জুম্মার নামাজ পড়ে এসে মেয়েকে নিয়ে খেলা করছিলেন তিনি। তখনই কলিংবেল বাজল। দরজা খুলতেই নুপুর এসে ঢুকল।

ফারাবী চুপ করে চেয়ে আছে তার দিকে। নুপুরকে বেশ বিধ্বস্ত লাগছে। ঢুকেই ফারাবীর দিকে কাঁদো কাঁদো হয়ে এগিয়ে এসেছিল জড়িয়ে ধরার জন্য। তিনি মাইশাকে কোলে নিয়ে দু কদম পিছিয়ে গিয়ে বললেন, কেন এসেছো?

- একটু ঠাঁই পেতে এসেছি, ফারু।

- দুঃখিত। এটা কোনো আশ্রয় কেন্দ্র নয়।

- প্লিজ ফারু আমাকে ফিরিয়ে দিও না। রায়হানের সাথে বিয়ে হওয়ার পর বুঝেছি আমি কি হারিয়েছি। ও আমার সাথে খুবই বাজে বিহেভ করে। ওকে ডিভোর্স দিয়ে আমি ফিরে আসতে চাই ফারু।

- সরি নুপুর, আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে থাকতে পারবো না।

- তাহলে রেখে দাও ওকে। এমনিতেও তো তুমি বাবা হতে পারবে না। আমরা দুজন ওকে মানুষ করব।

এবার বেশ রেগে গেলেন ফারাবী। বললেন, তোমার মতো স্বার্থপর মেয়ে আমি দুটো দেখিনি। যখন সময় ছিল তখন নিজের স্বার্থ দেখে আমাকে ভেঙেচুরে চলে গিয়েছিলে। আজ এসেছো ফিরতে। তাও আমার স্ত্রীর সামনে এমন কথা বলেছো? আর যাই হোক সে তোমার মতো নয়। আমি বেশ সুখে আছি। তুমি সুখে নেই এটা তোমার সমস্যা। এখন আসতে পারো। তোমার মতো মানুষের ছায়া আমার সুখের সংসারে পড়ুক আমি চাই না। চলে যাও। নুপুর অনেক কাকুতি মিনতি করতে চেয়েছিল কিন্তু ফারাবী সুযোগ দিল না। তাকে গলাতে না পেরে হতাশ হয়ে বেরিয়ে গেল নুপুর।

বিকালে বারান্দায় মাইশাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ আমার হাত ধরে বলল, আমার সাথে এসো তো। ছাদে নিয়ে গেল। দেখলাম রংধনু উঠেছে৷ অনেকদিন দেখা হয় না। তিনি আমার হাত শক্ত করে ধরে বললেন, মেহরাজ ভাই আমার জন্য রত্ন রেখে গেছেন। এই রত্ন আমি হারাতে চাই না, আয়েশা। বলেই মাইশা আর আমার কপালে চুমু এঁকে দিলেন।

কষ্ট করে গল্পটা পড়লেন এবার কমেন্ট করে যান কষ্ট করে একটা আর পেজে ফলো দিয়া যান যাতে খুশি হয়ে এমন গল্প আপনাদের পড়ার সুযোগ করে দিই।

27/09/2022

ইডেন কলেজ নাকি সাপ্লাই এর কাজও করে

25/09/2022

শয়তান যখন বিদায় নিয়ে অন্যরে দায়িত্ব দেয়

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মিম আক্তার আদুরি ও আরিয়ান ইসলাম মিম নামে দুই মেয়ে একে অপরকে বিয়ে করেছে 🤭উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হ...
23/09/2022

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মিম আক্তার আদুরি ও আরিয়ান ইসলাম মিম নামে দুই মেয়ে একে অপরকে বিয়ে করেছে 🤭

উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাটবাড়ি মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত বুধবার সকালে ওই এলাকার মানুষের মাঝে চাঞ্চল্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয়..

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ডোয়াইল হাটবাড়ী গ্রামের দুদু মিয়ার মেয়ে মিম আক্তার আদুরি (১৫) ও টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলা পাঁচনখালী গ্রামের রয়েজ আলীর মেয়ে আরিয়ান ইসলাম মিম (১৫)। তিন বছর আগে ফেইসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। তারা দুজনেই দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ধিরে ধিরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে! 🤔

সেই সম্পর্ককে পরিনতি দিতে গত ৩দিন আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ চলে যান। সেখানে গিয়ে ১লক্ষ ৫০হাজার টাকা ধার্য করে বিবাহের অঙ্গীকার নামা লিখেন। পরে তাদের পরিবারের লোকজন সংবাদ পেয়ে ঢাকার মহাখালী ডোয়াইলের হাটবাড়ীতে নিয়ে আসেন। সাথে তাদের দুই সহযোগী আয়াত আক্তার (১৭) ও রফিকা ইসলাম (১৮) নামে দুই মেয়েকেও নিয়ে আসা হয়। পরে এ নিয়ে গতকাল বুধবার সকালে ডোয়াইল ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা বৈঠক করেন। শালিস বৈঠকে ওই মেয়েদের কথা-বার্তায় তাদেরকে সমকামী বলে সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে পুলিশে সোর্পদ করেন।

মিম আক্তার আদুরির বাবা দুদু মিয়া বলেন, অপর মেয়েটি তার মেয়ের বান্ধবী। মাঝে মধ্যে সে এখানে বেড়াতে আসত। ৩ দিন আগে অপর মেয়েটি তার মেয়েকে ফুঁসলিয়ে মহাখালীতে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মিম আক্তার আদুরি ও আরিয়ান ইসলাম মিম উভয়ে বলেন, তারা একে অপরকে খুব ভালোবাসে। তাই তারা বিয়ে করেছে। ৩বছর আগে তাদের সম্পর্ক হয়। তাদের উভয়ের সম্মতিক্রমে বিয়ে হয়েছে। তারা একজন আরেক জনকে ছাড়তে পারবো না।

ডোয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক স্বপন বলেন, কিভাবে মেয়ের সাথে মেয়ের বিবাহ হয়। এটা সত্যিই একটি নেক্কার জনক ঘটনা। ওই মেয়েদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি গোলমেলে মনে হয়। পরে তাদেরকে পুলিশে সো-পর্দ করা হয়েছে।

এ-ব্যাপারে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মহব্বত কবীর বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মেয়ে চার জনকে জিঞ্জাসাবাদ করা জন্য থানায় আনা হয়েছে! 😅

তথ্যঃ কালেক্টেড

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when B-B-Bolt posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category