07/01/2025
দু'বছর আগে ফেসবুকে এক মেয়েকে বলেছিলাম- আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। মেয়ে সাফ জানিয়ে দিলো তার প্রথম শ্রেণির সরকারি জবওয়ালা ছেলে চাই। আমি শুধু 'বাই' বলে আর কখনো নক করিনি।
মেয়েটা সেদিন আমায় ফোন করলো,
জব পেয়েছো?
না।
আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে।
ওহ্! কনগ্রেটস!
আমায় নিয়ে পালাতে পারবে?
না।
ওকে,
তোমার ঠিকানাটা বলো। ইনভাইটেশন কার্ড পাঠিয়ে দেবো। বিয়ের দিন আসবে কিন্তু।
আচ্ছা।
তারপর সে ফোনটা কেটে দিলো। দু"দিন পর রঙিন কাগজে মোড়া একটা প্যাকেট আসলো ক্যুরিয়ারে। খুলে দেখলাম তার নিজের হাতে লেখা একটা চিঠি।
তুমি একটা কমবখত! যাই হোক বাবার পছন্দের ছেলেটা ভালো সরকারি চাকরি করে, সদ্যই জয়েন করেছে , ভালোই বেতন! অনেক স্মার্ট। তোমার থেকে দেখতে সুন্দর! মাথায় অবশ্য তোমার মতো এলোমেলো চুল নেই। সামান্য টাক। তবে খুব গোছালো। আমাকে আশ্বাস দিয়েছে, খুব আদরে রাখবে। আশীর্বাদে আমায় গয়নায় মুড়িয়ে দেবে বলেছে। আমাকে সে রাণী করে রাখবে। তার বাড়িতে কোন কাজ করতে হবে না আমাকে।
ধুর! খালি ওকে নিয়ে বক বক করে যাচ্ছি! আচ্ছা, তুমি সেই গল্পটা লিখে শেষ করেছো? যেটা তুমি আমাকে নিয়ে লিখতে চেয়েছিলে? না-কি আমার পাত্তা না পেয়ে সে-গল্পটা ছেড়েই দিয়েছো? এবার গল্পটা কিন্তু অবশ্যই লিখবে। একটা আবদার। জানি, তোমাকে আবদার করার মতো কোনো অধিকার আমার নেই, তবুও করছি, যদি পারো আমার বিয়েতে একটা সিঁদুরের কাঁটা গিফট করো আমায়। অল্প দাম দিয়ে কিনো।তোমার হাতে সিঁদুর পরাটা আমার কপালে ছিলো না হয়তো। কিন্তু তোমার দেয়া কাঁটায় সিঁদুর আাঁকতে তোমার নিশ্চয় আপত্তি থাকবে না!
-ইতি
তৃষ্ণা,,,,,
চিঠিখানা পড়ে খুব আশ্চর্যান্বিত হলাম। একদিকে ভালোও লাগলো। আমার মতো উজবুককে কোনো মেয়ে সত্যিই ভালোবেসেছিল!
আমি নির্দিষ্ট দিনে গিয়ে হাজির হলাম। মানুষে মানুষে জমজমাট আবহাওয়া। সবাই খুব ব্যস্ত। এতো ব্যস্ত ভীড়ে তৃষ্ণা কে কোথাও দেখতে পেলাম না। উঠোনের এক মাথায় বরের স্টেজ। একটা কম বয়সী মেয়ে বরকে পাখার বাতাস করছে।
আমি বরকে গিয়ে বললাম, আপনার ওখানে টোপর পরে আমার বসে থাকার কথা ছিল।
বর হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞেস করলো, কে আপনি? আর এসব কথাই বা বলার সাহস আপনার কী করে হয়?
আমি শান্তভাবে বললাম, আপনি যে মেয়েকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন ঐ মেয়েটা আমাকে নিয়ে পালাতে চেয়েছিল। আমি পালাই নি। এবার আপনিই ভেবে দেখুন, কেন সাহস পেলাম।
বর তেলেবেগুনে উঠে এসে আমার কলার ধরে নিয়ে গেল একটা ফাঁকা রুমে।