10/05/2026
#উত্তমকুমার_ছোটিসি_মুলাকাত #পাঁচ_হাজারী_জলসা।
#গৌতম_রায়
সিঁথির মোড়ের এম পি স্টুডিও তে যখন উত্তমকুমার যোগ দিচ্ছেন তখন বাংলা ফিল্মে কানন যুগ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।নায়কের তখত নিয়ে চলছে অসিতবরণ, প্রদীপকুমারদের ভিতরে ঠান্ডা লড়াই।নায়কের বাজার তখন অনেকটাই এঁদের দখলে।ফিল্মে উত্তমকুমার মুখ দেখালেও সেভাবে সাফল্যের কাছে তিনি তখন ও পর্যন্ত পৌঁছতে পারেন নি।উত্তমের মনে তখন নিজের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে জোর মানসিক লড়াই চলছে।এই নিজেকে নিয়ে নিজেরই কাঁটা ছেঁড়া করা - এটা অভিনেতা উত্তমের চরিত্রের একটা বড়ো রকমের বৈশিষ্ট্য ছিল।নিজের ব্যক্তি জীবন নিয়ে তিনি সেভাবে নিজের সঙ্গে অন্তর্তদন্ত করছেন কি না- এই নিয়ে উত্তম প্রেমিক বনাম উত্তমবাবুকে নিয়ে চর্চা করা মানোষদের ভিতরে যতোই জোরদার বিতর্ক থাকুক না কেন, অভিনেতা উত্তম যে নিজের অভিনয় জীবনের শুরু থেকে গোধুলি বেলা পর্যন্ত পোষ্টমর্টেম করতেন- এটা নিয়ে কারো ভিতরে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই।আর এই অন্ততদন্ত ই উত্তমের অভিনয়ের বিবর্তনের চাবিকাঠি, এই চাবিকাঠি নিয়েই তিনি বছরের পর বছর দর্শকের মনের সিন্দুকের তালা খুলে গেছেন অবলীলাক্রমে।
সময়কালটা পাঁচের দশকের সূচনাকাল। দেশভাগ আমাদের চিন্তাচেতনার ধারাকে বদলে দিয়েছে তখন। বদলে দিয়েছে রোম্যান্টিকতার ভাষাও। যেন প্রেমের ভাষাকে একটা অন্য ছন্দ এনে দিচ্ছে সেই সময়ের জীবন যন্ত্রণা।মানুষের ভিতরে তখন সাহিত্য প্রীতি একটা বড় জায়গা দখল করে আছে।মননশীলতা এবং বিনোদনের উপকরণ হিশেবে সাহিত্য বনাম ফিল্মের টক্কর তখন সবে শুরু হবো হবো করছে।নিউ থিয়েটার্সের অভিনয়ের ধারা থেকে সরে এসেছেন সেই সময়ের ম্যাটিনি আইডল কানন দেবী।তাঁর শ্রীমতী পিকচার্সের সলতে পাকানোর কাজ চলছে। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য নির্ভর দু একটি উপন্যাস নিয়ে ফিল্ম হয়েছে।তবে রবীন্দ্র কাহিনি নিয়ে তৈরি করা প্রথম যুগের ফিল্ম গুলি পরিচালনা এবং অভিনয়শৈলির নিরিখে তেমন একটা দর্শকের চিত্তে আলোড়ন তুলতে পারে নি।বরংচ শরত্চন্দ্রের কাহিনি অবলম্বনে তৈরি ফিল্মগুলো সাধারণ দর্শকদের কাছে অনেকবেশি সাড়া ফেলেছে।উচ্চকোটির জীবনবোধ এবং দর্শন চিন্তা থেকে সাধারণের জীবনের বারমাস্যা দর্শকের চোখের জলের ধারা হয়ে প্রযোজকের মনতুষ্টির কারণ ঘটাচ্ছে। দেশভাগের যন্ত্রণাতে একটা প্রচন্ড সঙ্কটের ভিতরে থাকা মধ্যবিত্ত যেন কল্পোজগত নয়,জীবনযন্ত্রণার ভিতরেই তাঁর বিনোদন কে খুঁজে নিচ্ছে।
উত্তমকুমারের জীবনের প্রথমযুগের অভিনয় আর পাঁচের দশকের সূচনা পর্ব থেকে তাঁর ভিতরে অভিনয়ধারাতে ভাঙাগড়া , একটা শূন্য থেকে শুরুর দিকে যাত্রা - ফিল্মি দুনিয়ার এই সমাজতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট টি অনেকখানি জায়গা জুড়ে রয়েছে।অভিনয়ের শুরুতে উত্তমবাবুর একের পর এক ফ্লপ ছবি,হতাশা, সঙ্কট,পারিবারিক চাপ,ইত্যাদি সামাজিক ঘটনাবলী গুলো তাঁর অভিনয় সত্তা এবং অভিনেতা সত্তাকে ভেঙে চুড়ে একটা শীর্ষবিন্দুর দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল। বাংলা ফিল্মের জগতে অভিনয় ধারার অদলবদলের যে ইঙ্গিত উত্তমবাবু এম পি স্টুডিও তে প্রবেশ কালে সেই পাঁচের দশকের শুরুতে পেয়েছিলেন, সেই ইঙ্গিতের সঙ্গে অবশ্য ই বাংলা প্রসেনিয়াম থিয়েটারের সেই সময়ে যে ভাঙাগড়া চলছে, অভিনয়কুশলতায় যে অদলবদল চলছে- সেই ওঠা পড়া তাঁর শিল্পী চিত্তে নিশ্চয়ই একটা প্রভাব ফেলেছিল।পরবর্তী যুগে রূপোলী পর্দায় তিনি খ্যাতি পেতে শুরু করলেও স্টেজে তিনি যখনই পেরেছেন , তখন ই স্বমহিমায় নিজেকে মেলে ধরেছেন।তাই অসফল অভিনেতা নেতা সফলতম অভিনেতা হিশেবে উত্তরণের কালে বাংলা গ্রুপ থিয়েটারের যে অদলবদলের যুগ,সেটাকেও উত্তমবাবু খুব মেধার সঙ্গেই পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। নিজের অভিনয়ধারাকে কালের উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে উত্তমবাবুর জীবনে সমসাময়িক থিয়েটার এবং থিয়েটারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সামাজিক উত্তাপের একটা বড়ো ভূমিকা আছে।এটা ভেবে একটু অবাক লাগে এই কারণে যে, উত্তমবাবুকে নিয়ে, তাঁর অভিনয় প্রতিভা, অভিনয়ধারার বিবর্তন ইত্যাদি নিয়ে আজ পর্যন্ত তেমন একটা সিরিয়াস আলোচনা দেখতে পাওয়া যায় না।আর যেটুকু বা তাঁর অভিনয় নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা হয়েছে, সেখানে কোথাওই তাঁর অভিনয়ের দক্ষতায় বিবর্তন , বিশেষ করে সাহিত্য নির্ভর ফিল্মে ভূবনভোলানো অভিনয়ের প্রেক্ষিতে সমসাময়িক প্রসেনিয়াম থিয়েটারের পরোক্ষ ভূমিকা এবং অবদান সম্পর্কে তেমন একটা শব্দ খরচ হয় নি।
উত্তমবাবু '৪৭ সালে মায়াডোর নামে একটি ছবিতে অতিরিক্ত শিল্পী হিশেবে নিজের ফিল্মি অভিনয় জীবন শুরু করেন। এই ছবিতে তিনি পাঁচ দিনের কাজ করেছিলেন।দুর্ভাগ্যের কথা এই মায়াডোর ছবি টি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায় নি।তাই প্রথম ফিল্মে এক্সট্রা শিল্পী হিশেবে কেমন ছিল উত্তমকুমারের অভিনয়- তা দর্শকদের কাছে চিরকালের জন্যে ই অজানা থেকে গেল।আজ ভাবলে বেশ অবাক ই লাগে , উত্তমকুমার কেও তাঁর অভিনয় জীবনের শুরু তে সেই সময়ের বিশেষ নামডাক ওয়ালা নায়ক অসিতবরণের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছিল।'৪৮ সালের এই ছবিটির নাম ছিল " দৃষ্টিদান" । এটি ই উত্তমকুমারের মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি।এর পরের বছর খানিকটা পূর্ণাঙ্গ চরিত্রে উত্তমকুমার অভিনয় করলেন " কামনা" তে। পরিচালক ছিলেন ছিলেন নব্যেন্দুসুন্দর বন্দ্যোপাধ্যায়।এই " কামনা" ছবিতে নায়িকা হিশেবে ছিলেন সে যুগের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছবি রায়। তবে এই ছবিতে দর্শক মহলে আদৌ কোনো ছাপ ফেলতে পারেন নি উত্তমবাবু।তার পরের বছরের ছবি দিগম্বর চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় " মর্যাদা" । ছবি দেবী ছিলেন এই ফিল্মের নায়িকা। এ ছবি ও দর্শক নেয় নি। ১৯৫১ সালে উত্তমবাবু তিনটি ছবিতে অভিনয় করলেন। প্রথমটি রাজেন চৌধুরীর পরিচালনায় " ওরে যাত্রী" । এই ছবির নায়িকা ছিলেন করবী গুপ্তা। এরপরই উত্তমকুমারের জীবনে অগ্রদূত পরিচালিত প্রথম ছবি " সহযাত্রী" , নায়িকা ছিলেন ভারতী দেবী। এই " সহযাত্রী " ছবিটিই অভিনেতা উত্তমকুমারের অভিনয়ের স্বকীয়তার প্রথম স্বাক্ষর। " সহযাত্রী" দর্শকের মনে বেশ খানিকটা জায়গা করে নিল। অভিনেতা হিশেবে এই ছবি থেকেই দর্শক ও উত্তমকুমার কে আপনার করে নিতে শুরু করলো। সেই বছরই পশুপতি চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালনায় " নষ্টনীড়" নামে আর একটি ছবিতে উত্তমবাবু অভিনয় করেছিলেন। সে যুগের প্রতিষ্ঠিত শিল্পী সুনন্দা দেবী ছিলেন নষ্টনীড়ের নায়িকা। তবে সহযাত্রীর মতো দর্শকদের ভালোবাসা নষ্টনীড়ের জোটে নি।
উত্তমকুমারের অভিনয়ের প্রথম যুগে যখন অসিতবরণের বক্স অপিস হিট , সেই সময়ে যাঁরা উত্তমকুমারের ভিতরে সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছিলেন, তাঁরা চাইছিলেন প্রমতেশ বড়ুয়ার ধাঁচের সময়োপযোগী অভিনেতা হিশেবে উত্তমকে তুলে ধরতে।প্রমথেশ বড়ুয়ার অকাল মৃত্যু বাংলা চলচিত্রে যে শূন্যতা তৈরি করেছিল, উত্তমকুমার প্রমথেশীয় অভিনয়ের ভিতর দিয়ে সেই যুগ আবার ফিরিয়ে আনবেন- এমনটা সেই সময়ের কেউ কেউ ভেবেছিলেন।এই ভাবনার সঙ্গে সেই সময়েই একদম সহমত ছিলেন না স্বয়ং উত্তমকুমার। সময়ের পরিবর্তনটাকে তিনি খুব ভালো ভাবে উপলব্ধি করেছিলেন।অসিতবরণের অভিনয়ধারা ই যে সে ভাবে নোতুন যুগের দর্শক নিতে চাইছে না- প্রখর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ উত্তম সেটা বেশ ভালো ভাবেই বুঝেছিলেন। তাই যেখানে প্রমথেশের পরের যুগের নায়ক অসিতবরণের ই অভিনয়ের ধারাকে মানুষ সেভাবে নিচ্ছে না, সেখানে প্রমথেশের যুগের অভিনয়ের ধারা কে কি ভাবে আর সময়োপযোগী করা যায়?- এই ভাবনা " সহযাত্রী " ছবির কাল থেকেই উত্তমকুমারকে ভাবাতে শুরু করে দেয়।অনেক পরে " নায়ক " ছবির সংলাপের ভিতরে যে অতীতের অভিনেতাদের অভিনয় ধারা সম্পর্কে কথাগুলি উত্তমবাবু বলেছিলেন, সেইসব কথা গুলি এই পাঁচের দশকের শুরুতে এম পি স্টুডিওতে কাজ শুরু করার একদম প্রথমদিকে ব্যক্তি উত্তমকুমারের উপলব্ধির নির্যাষ ছিল, সেই কারণেই " নায়ক" এবং তার সংলাপ যেন দর্শকের কাছে একটি বারের জন্যে ও উত্তমকুমারের অভিনয় বলে মনে হয় নি।মনে হয়েছিল উত্তমবাবুর জীবন আখ্যান।
উত্তমবাবুকে যদিও তাঁর মেন্টরদের ভিতর কেউ কেউ প্রমথেশ বড়ুয়ার উত্তরসূরী হিশেবে গড়ে তুলতে চাইছিলেন ,কিন্তু " সহযাত্রী" তে অসিতবরণের বিকল্পধারার যে অভিনয়রীতির প্রয়োগ পর্দাতে উত্তমকুমার করলেন, তা সব দিক থেকেই পরিচালক, ফিল্মের সঙ্গে যুক্ত মানুষ জন, সর্বোপরি দর্শকদের অভিভূত করে তুললো।এই ছবিটিতে অভিনয়ের আগেই উত্তমবাবু শুনেছিলেন যে, ছবিটির নায়ক হিশেবে নির্বাচন করা হয়েছিল অসিতবরণ কে।কিন্তু অসিতবরণ অন্য একটি ছবির কাজে তখন হঠাত্ ই খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে তিনি সহযাত্রীর জন্যে কিছুতেই আর সময় বের করতে পারছিলেন না।ফলে স্বভাবত ই পরিচালক বিকল্প অভিনেতার খোঁজ করতে শুরু করে দিয়েছিলেন।এই অবস্থায় একবুক আশা নিয়ে উত্তমকুমার সটান হাজির হলেন বিভূতি লাহার কাছে।তখন ও উত্তমকুমার কলকাতা পোর্ট কমিশনার্সের কর্মী। তাই পরিচালকের মনে গভীর সংশয়। একটানা শুটিং হবে। অভিনেতা একটানা শুটিংয়ের সময় দিতে পারবেন তো আপিসের কাজ বাঁচিয়ে?
ছুটির কথা শুনে উত্তমবাবু সেদিন উত্তর দিয়েছিলেন; ছুটি তো কোন ছাড়।দরকার হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত আছেন।
এই প্রস্তাবটি প্রকারান্তে মানুষ উত্তমকুমারের অভিনেতা উত্তমকুমার হিশেবে পূর্ণতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি ধাপ ছিল।আগের ফ্লপ ছবি গুলির দরুণ উত্তমের মনে তখন কিছুটা হতাশা দানা বাঁধতে শুরু করেছিল।তাঁর এমন একটা ধারণা জন্মেছিল যে, তাহলে কি অভিনেতা হিশেবে মানুষকে দেওয়ার মতো কোনো কিছু ই তাঁর ভিতরে নেই?শুরুর আগে ই কি তিনি ফুরিয়ে গেলেন?
এই হতাশা থেকে তাঁকে টেনে তোলে " সহযাত্রী" ছবিতে একটানা অভিনয় করে ছবিটিকে উত্ড়ে দেওয়ার প্রস্তাব।উত্তমবাবু তখন রীতিমতো সংসারী মানুষ। ছেলে গৌতমের জন্ম হয়ে গেছে।ছাপোষা বাঙালি মধ্যবিত্ত একান্নবর্তী পরিবারের অনেক দায় দায়িত্ব তখন তাঁর কাঁধে।তবু ও তিনি অভিনয়ের জগতে নিজের দক্ষতা প্রমাণে কতোখানি কৃতসংকল্প ছিলেন তা বোঝা যায়, এক কথাতে স্থায়ী সরকারী চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলবার ভিতর দিয়ে।
বড়ুয়া যুগের পর নায়ক হিশেবে অসিতবরণ বা প্রদীপকুমারেরা যতোই বক্স অফিস সাফল্য পান না কেন ,রোম্যান্টিক নায়ক হিশেবে বড়ুয়ার উত্তরসূরী হিশেবে এঁরা যেন কিছুতেই উঠে আসতে পারছেন না- পাঁচের দশকের গোড়াতেই এই উপলব্ধি থেকে এম পি স্টুডিও র সঙ্গে যোগাযোগের সময়কাল থেকে মানুষ উত্তমকুমার বদলাতে শুরু করে দিয়েছিলেন অভিনেতা উত্তমকুমারকে।অভিনেতা হিশেবে অসিতবরণ আদৌ কোনো ছোটোখাটো মাপের মানুষ ছিলেন না।অত্যন্ত ভালো গান জানতেন।কুন্দনলাল সায়গল যে নায়ক - গায়কের একটা ধারা তৈরি করে গিয়েছিলেন, সেই ধারাতে অসিতবরণের বিচরণ ছিল অত্যন্ত সাবলীল। তবু ও কোথায় যেন একটা খামতি থেকে যাচ্ছে- এটা বুঝেছিলেন উত্তমবাবু।জন্ম রোম্যান্টিক উত্তমকুমারের কাছে অসিতবরণের সেই খামতিটাই অভিনেতা উত্তমকুমারকে তাঁর অভিনয়ের প্রথম যুগে একটা অদম্য প্রেরণা জুগিয়েছিল। কি ভাবে অসিতবরণ বা প্রদীপকুমারের অভিনয়ের রোম্যান্টিকতার খামতিটাকে পূরণ করা যায়- নিজের অভিনয়ের মোড় ঘোরাবার সময়কালে এটাই হয়ে উঠেছিল ব্যক্তি উত্তমকুমারের সামনে একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জের সঠিক মোকাবিলাতেই ব্যক্তি উত্তম অভিনেতা থেকে হয়ে উঠেছিলেন নায়ক। সেই নায়কের ব্যাপ্তিকে অতিক্রম করে তাই ক্রমে পরিপূর্ণতা পেয়েছিলেন মহানায়কে।
উত্তমকুমার মানেই বিতর্ক।এই বিতর্ক নামক শব্দবন্ধনী অভিনেতা থেকে নায়ক, নায়ক থেকে মহানায়ক - প্রতিটি পর্বেই ছিল উত্তমবাবুর চির সঙ্গী। যে 'সহযাত্রী' ছবিটিতে উত্তমকুমার প্রমথেশ বড়ুয়া থেকে অসিতবরণ, প্রদীপকুমার- সব ফর্মকে ভেঙে দিয়ে নিজের থেকে বয়সে অনেক বড়ো, সেটে যাঁকে " দিদি" সম্বোধন করতে হতো, সেই ভারতী দেবীর বিপরীতে রোম্যান্টিক নায়ক হিশেবে একটা নতুন ধারার অভিনয় প্রতিভার স্ফুরণ ঘটালেন, সেখানে ছবিটির দারুণ বাণিজ্যিক সাফল্য এলো। উত্তমকুমারের ও আগের ছবিগুলির সাফল্য হীনতার হতাশা কাটবার উপক্রম হলো, সেখানে ফিল্মি জগতেরই একটা অংশ থেকে এই আওয়াজ তোলা হলো যে, ছবির নায়িকা ভারতী দেবীর ব্যক্তি জীবনের কিছু রোমহর্ষক সিদ্ধান্তের নিরিখে, ভারতী দেবীর জনপ্রিয়তাই এই ছবিটির উত্ড়ে যাওয়ার আসল চাবি কাঠি।উত্তমকুমারের যথার্থ রোম্যান্টিক অভিনয়কে প্রায় নস্যাত্ করে দেওয়ার এক অদ্ভূত প্রবণতা তৈরি করা হলো। এই প্রবণতার ভিতরে ভারতী দেবীর ফ্যানেদের ভৌমিকা তীব্র ছিল, নাকি অসিতবরণ, প্রদীপকুমাদের অতিভক্তদের পর্দার আড়াল থেকে কোনো ভূমিকা ছিল - এ নিয়ে চর্চা বোধহয় আজ ও থামে নি। সেই সময়ের বাংলা চলচিত্রের অভিনেত্রীদের ভিতরে সাহসিকতার জন্যে কানন দেবীর পরেই উঠে আসে অভিনেত্রী ভারতী দেবীর নাম।শিক্ষিতা, সাহসী এবং বিদূষী হিশেবে ভারতী দেবীর সে সময়ে বাংলা ফিল্মের জগতে একটা বিশেষ মর্যাদার আসন ছিল।ভারতী দেবীর ব্যক্তি জীবনটা ছিল খুবই যন্ত্রণার।তাঁর প্রথম বিয়েটা ভারতী দেবীর জীবনে ছিল অভিশাপ স্বরূপ।তিনি যে কোনো মূল্যে ই সেই প্রথম বিয়ে থেকে নিস্কৃতি চাইছিলেন।অথচ তাঁর সেই স্বামী তাকে কিছুতেই মুক্তি দিচ্ছিলেন না। এই অবস্থায় একান্ত নিরুপায় হয়ে ভারতী দেবী পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ করেন ।প্রথম বিয়ে থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার পর তিনি আবার বিয়ে করেন। এই ঘটনা তখন চলচিত্রের আঙিনা অতিক্রম করে বাংলার সামাজিক জীবনকে খুব ই আলোড়িত করেছিল।তবে দ্বিতীয় বিয়ের পর ভারতী দেবী আবার হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিল্মি জগতে ভারতী দেবী তখন একটি বহু আলোচিত নামে পরিণত হন।অনেকের ই ধারণা ভারতী দেবীর এই ব্যক্তিজীবনের ঘটনাক্রম আলাদা করে তাঁর একটা বক্স অফিস তৈরি করেছিল।বস্তুত এই "সহযাত্রী" ছবিতে উত্তমকুমারের অসামান্য রোম্যান্টিক অভিনয়কে যারা খাটো করে দেখিয়ে খানিকটা উত্তম বিদূষণ করতে চান, তারাই এভাবে এই ছবিতে সমসাময়িকতা অতিক্রম করে উত্তমের অসামান্য অভিনয়কে ঢেকে দিতে নায়িকা ভারতী দেবীর ব্যক্তি জীবনের ঘটনাবলীর নিরিখে হাস্যকর ভাবে ছবিটির জনপ্রিয়তার তুল্যমূল্যে এর বিচার করতে চান।
উত্তমকুমার অভিনীত প্রথম পরিপূর্ণ সাহিত্য নির্ভর ফিল্ম হলো 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' ।রবীন্দ্রনাথের প্রথম জীবনের এই উপন্যাস নিয়ে উত্তমকুমার ফিল্ম করেন ১৯৫৩ সালে। সেই বছরেই উত্তম - সুচিত্রা জুটির প্রথম ছবি ,নির্মল দে পরিচালিত' সাড়ে চুয়াত্তর ' প্রকাশের সঙ্গেই সুপার, ডুপার হিট হয়ে গেছে।তার আগে অবশ্য '৫২ সালে উত্তমকুমার তিনটি ছবি করেছিলেন। প্রথমটি হলো সুকুমার দাশগুপ্তের পরিচালনায় " সঞ্জীবনী" ।এই ছবিতে নায়িকা ছিলেন সন্ধ্যারাণী।এর পরের ছবি, নির্মল দে পরিচালিত "বসু পরিবার" , এ ছবিতে কোনো নায়িকা ছিল না।" বসু পরিবার" ছবিটি ও যথেষ্ট বক্স অপিসের সাফল্য পেয়েছিল।'৫৩ সালে ' সাড়ে চুয়াত্তর ' এবং' বউ ঠাকুরাণীর হাট" ছাড়াও উত্তমকুমার আরো দুটি ছবি করেন।সেগুলি হল, নীরেন লাহিড়ি পরিচালিত " লাখ টাকা" । এই ছবির নায়িকা ছিলেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। আর সে বছরের ই আর একটি ছবি হলো , সুবোধ মিত্র পরিচালিত" নবীন যাত্রা" । তবে ' সাড়ে চুয়াত্তর ' আর " বউ ঠাকুরাণীর হাট " ছাড়া সে বছরের আর কোনো ফিল্ম ই বক্স অফিসের সাফল্য দেখে নি।
" সাড়ে চুয়াত্তর" এর সাফল্যের পাশাপাশি ই পরিচালক নরেশ মিত্র তাঁর আগামী ছবি রবীন্দ্র উপন্যাস অবলম্বনে " বউ ঠাকুরাণীর হাট" এর জন্যে প্রাথমিক ভাবে নির্বাচন করলেন উত্তমকুমারকে।নরেশ মিত্র র সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে উত্তমকুমারের প্রথম সাক্ষাত্তেই তিনি উত্তমকে জিগ্যাসা করলেন ; ঘোড়ায় চড়তে জানো? কারণ, এই ' বউ ঠাকুরাণীর হাট" ছবিতে ঘোড়ায় চড়ার বেশ কিছু দৃশ্য আছে।
উত্তমকুমার তখনো ঘোড়ায় চড়তে জানতেন না।তাই পরিচালক নরেশ মিত্র তাঁর নোতুন ছবির অভিনেতা নির্বাচনের সময় সরাসরি এই ঘোড়ায় চড়ার বিষয়টির অবতারণা করাতে প্রাথমিক ভাবে উত্তমকুমার একটু ঘাবড়েই গেছিলেন।তবে ঘাবড়ে গেলেও সেই ঘাবড়ানোতে প্রকাশ্যে দেখানোর মতো মানুষ উত্তমকুমার কোনো দিন ই ছিলেন না।পর্দায় যে স্মার্টনেস তাঁর ভিতরে আমরা আজীবন দেখে গেছি, সেটা উত্তমকুমারের কোনো মেকী বা আরোপিত সত্তা ছিল না।তাই নরেশ মিত্রর প্রশ্ন শুনে উত্তমবাবুর মনে পড়ে গিয়েছিল যে, এম পি স্টুডিও তে ঢোকার মুখে মুরলীবাবু বলে এক হিতাকাঙ্খী তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, ভালো অভিনেতা হতে গেলে কেবল দেখতে সুন্দর আর অভিনয়ে দক্ষতা থাকলেই চলে না।সঙ্গে কিছু শারীরিক কসরত্ অবশ্য ই জানতে হয়।সেই শারীরিক কসরতের ভিতরেই যে ঘোড়ায় চড়াটা ও পড়ে সে কথাটা এম পি স্টুডিও র প্রায় প্রথম দিন ই সেই মুরলীবাবু নামক হিতাকাঙ্খী মানুষটা উত্তমকুমারকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।তাই নরেশ মিত্র কে অবাক করে দিয়ে এম পি স্টুডিও র ভিতরেই ঘোড়ায় চড়া অল্প দিনের ভিতরেই আয়ত্ত করে নিলেন উত্তমবাবু। এই ঘোড়ায় চড়ার বিষয়টা পরবর্তীতে তপন সিংহ পরিচালিত শরদিন্দুর উপন্যাস অবলম্বনে ছবি " ঝিন্দের বন্দি" তে অভিনয়ের সময়েও খুব কাজে লেগেছিল উত্তমবাবুর।
অল্প দিনের ভিতরে ' বউ ঠাকুরাণীর হাট' ছবিটি তৈরি হওয়ার আগে যে উদ্যমে নিজের চেষ্টাতে এম পি স্টুডিও র ভিতরে ঘোড়ায় চড়া শিখে পরিচালক নরেশ মিত্র কে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন উত্তমকুমার, তা থেকেই বোঝা যায় একজন পরিপূর্ণ অভিনেতা হয়ে ওঠার জন্যে তিনি কতোখানি আন্তরিক ছিলেন।' বউ ঠাকুরাণীর হাট' অভিনয়পর্বে ই স্টার থিয়েটারে নিরুপমা দেবীর কালজয়ী উপন্যাস " শ্যামলী" তে দীর্ঘদিন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন উত্তমকুমার। এই পর্বে বিশিষ্ট্য নাট্য ব্যক্তিত্ব দেবনারায়ণ গুপ্তর একটি বিশেষ প্রভাব ছিল ব্যক্তি এবং অভিনেতা উত্তমকুমারের উপর।
১৯৫৪ সালে উত্তমকুমার বেশ কয়েকটি সাহিত্য নির্ভর ফিল্মে অভিনয় করেন।নির্মল দে পরিচালিত তারাশঙ্করের উপন্যাস অবলম্বনে ' চাঁপাডাঙার বৌ' উত্তমকে খ্যাতির শিখরে পৌঁছে দেয়।এই ছবির নায়িকা ছিলেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়।এই বছরেই উত্তমকুমার অভিনয় করেন আশাপূর্ণা দেবীর কাহিনী অবলম্বনে " অগ্নিপরীক্ষা" ।এই মিষ্টি মধুর প্রেমের ছবিটি সবদিক থেকেই একটা ইতিহাস।উত্তম- সুচিত্রা জুটির এক সার্বিক উত্তরণ এই " অগ্নিপরীক্ষা" ।অভিনয়ের পাশাপাশি গানের দিক থেকে উল্লেখ করতে হলেও এই ছবি একটি মাইলস্টোন।এই ছবিতে সুচিত্রা সেনের লিপে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গানে যে মেলবন্ধন ঘটেছিল তা পরবর্তী যুগে একটা ইতিহাস রচনা করেছে।যদিও এই ছবিতে অনুপম ঘটকের সুরে সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া;' জীবন নদী জোয়ার ভাঁটায় কতো ঢেউ' আজ ও সন্ধ্যা মুখার্জীর ওই ছবির রোম্যান্টিক গানকে অতিক্রম করে শ্রোতাদের হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়।এখানে একটা কথা বলতেই হয় যে, ফিল্মে ভয়েস ওভারের ক্ষেত্রে উত্তমকুমারের লিপে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় যেমন শ্রোতাদের হৃদয়হরণ করেছেন, তেমনি ই বলতে হয় মান্না দের কথা ও।কিছু ফিল্মে অসাধারণ কন্ঠ দিয়েছিলেন শ্যামল মিত্র।' অমানুষ' ছবিতে কিশোরকুমার আজ ও শ্রোতাদের হৃদয়ে গেঁথে আছেন।কোনো পরিচালক ই কিন্তু এ ক্ষেত্রে সুচিত্রা সেন কে নিয়ে তেমন একটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন নি।উত্তমকুমার বহু ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়েও যেমন পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পক্ষপাতী ছিলেন, তেমনটা বোধহয় হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ব্যাতীত অন্য কোনো সঙ্গীত পরিচালকরা ছিলেন না।উত্তম ঝুঁকি নিতে ভয় পেতেন না বলেই বম্বে ফিল্ম জগতের নানা কথা শুনে এবং দেখে " ছোটি সি মুলাকাত্ ' করার ঝুঁকি নিয়েছিলেন।
তেমনি ই উত্তমকুমারের মতোই ঝুঁকি নিয়ে সন্ধ্যা মুখার্জীর সুচিত্রার লিপ জনিত জনপ্রিয়তাকে তোয়াক্কা না করে " হারানো সুর" এ গীতা দত্ত কে দিয়ে গাইয়েছিলেন;' তুমি যে আমার' । যে গানটি আজ ও সুচিত্রার লিপে গাওয়া সন্ধ্যা মুখার্জীর প্রায় সব সুপার ডুপার হিট গানের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। এক ই কথা প্রযোজ্য উত্তমবাবুর" ইন্দ্রাণী" ছবিতে গীতা দত্ত এবং হেমন্ত বাবুর ডুয়েট সম্পর্কে।এই ঝুঁকির রসায়নে হরিহর আত্মা হয়ে ইতিহাস রচনায় হেমন্ত আর উত্তম জুটি ছিলেন এক ও অনন্য।
প্রমথেশ বড়ুয়া যেমন জীবত্কালেই দর্শকদের হৃদয়াকাশে কি বিরাট জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন তা বোঝা যায় সে যুগের ' বড়ুয়া গলার পাঞ্জাবি'র ভিতর দিয়ে।তেমনিই পুরুষের মাথার চুলের ছাঁটেও উত্তমবাবু হয়ে উঠেছিলেন আইডল।উত্তমবাবুর মৃত্যুর এক যুগ পরের ঘটনা।এই কলমচির ভাগ্নে সুমন তখন নেহাতই শিশু।টেলিভিশনে উত্তমপর্বের ছবির দৌলতে তার উত্তমকুমারকে চেনা। রাতে না খেয়ে শিশুটি ঘুমিয়ে পড়েছে। খাওয়ানোর জন্যে ঘুম থেকে ডেকে তোলা হলো,শিশুটির কান্না। যেই তার মা বললে; উত্তমকুমারের মতো স্মার্ট হও।মন্ত্রের মতো কাজ করলো সে কথা।আজ ও একটা বড় অংশের মধ্যবিত্তের কাছে তেমনি ই পেশাজীবনের নানা আঙ্গিকে উত্তম অভিনীত ফিল্ম গুলি এক একটা মাইলস্টোন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।অনেকের ই হয়তো জানা নেই, প্রথম জীবনে গানের টিউশানি ও উত্তমকুমার করেছেন। ঘোড়াতে চড়ার মতোই সিনেমার প্রয়োজনে তিনি পিয়ানো বাজানো শিখেছিলেন।অসাধারণ হারমোনিয়াম বাজাতে পারতেন।গায়ক হিশেবে উত্তমকুমারের অসামান্য অভিনয় রয়েছে সুবীর মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ' শাপমোচন'(১৯৫৫ , নায়িকা - সুচিত্রা সেন) , ' সুরের পরশে'(১৯৫৭,পরিচালক চিত্ত বসু, নায়িকা মালা সিনহা, , দেয়া নেয়া( '৬৩ , পরিচালনা সুনীল বন্দ্যোপাধ্যায়, নায়িকা- তনুজা) , অ্যান্টনী ফিরিঙ্গি('৬৭, পরিচালনা - সুনীল বন্দ্যোপাধ্যায়, নায়িকা- তনুজা) , সোনার খাঁচা('৭৩, পরিচালনা - অগ্রদূত , নায়িকা - অপর্ণা সেন) , ভোলা ময়রা('৭৭, পরিচালনা- অগ্রদূত, নায়িকা- অপর্ণা সেন) ।
অভিনেতা উত্তমকুমার যখন সাহিত্য নির্ভর ছবিতে অভিনয় করতেন তখন দর্শক একই সঙ্গে অভিনয় এবং সাহিত্যের রসাস্বাধনের স্বাদ পেতেন।এর হয়তো একটা বড়ো কারণ, সাহিত্য নির্ভর ছবি করার আগে সংশ্লিষ্ট সাহিত্যটির সঙ্গে উত্তমবাবু একাত্ম হয়ে যেতেন।সাহিত্যের রসাস্বাধনের একটি আশ্চর্যজনক ক্ষমতা উত্তমবাবুর ভিতরে ছিল। ধরা যাক, 'সপ্তপদী' ছবিটির কথা।তারাশঙ্করের এই অসামান্য উপন্যাস অবলম্বনে ছবির ভাবনা যখন প্রযোজনা করার কথা উত্তমকুমারের মাথায় আসে তখনই তিনি তারাশঙ্করের সান্নিধ্যে আসেন।তারাশঙ্করকে , তাঁর মননশীলতাকে, তাঁর সাহিত্য কর্মকে বোঝার চেষ্টা করেন। এই ছবিটির চিত্রসত্ত্ব দেওয়ার সময়ে উত্তমবাবুকে তারাশঙ্কর বলেছিলেন; আর যাই করো, চিত্রনাট্য লিখতে গিয়ে গল্পের কোনো অদলবদল ঘটিয়ো না।সেটা আমি সইতে পারব না।চিত্রনাট্য তৈরি হয়ে গেলে , সেটা একবার আমাকে দেখিয়ে নিয়ে তারপর ছবির কাজ শুরু করবে।" সেই তারাশঙ্করের ভাবনাকেও কিন্তু আপন ব্যক্তিত্ব আর ভালোবাসা দিয়ে বদলাতে পেরেছিলেন উত্তমকুমার।