23/04/2025
আজকের সিনেপাঠ — সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই (বাংলা / ২০২৫)
পরিচালনা- সৃজিত মুখোপাধ্যায়
আমি জানি আমার বুদ্ধি মোটা। আমার চেতনা ততটা সূক্ষ বুদ্ধি সম্পন্ন নয়। তাই নিজের ভোঁতা মাথা নিয়েই লিখতে বসছি। যেহেতু আমার বুদ্ধি কম তাই আমি তিনটি প্রস্তাব রাখছি:
প্রথমত, আমার মাস্টার মশাইয়ের একটি গল্প বলি। তিনি এবং তাঁর সহপাঠীবৃন্দ ছোটবেলায় ইস্কুলে অঙ্ক করছেন। এক শিক্ষক মহাশয় একটি অঙ্কের সমাধান করে দিয়েছেন, কিন্তু ঠিকমত ব্যাখ্যা করতে পারেন নি। আমার মাস্টার মশাইয়ের সহপাঠী বললেন গোঁজামিল। অমনি অংকের মাস্টার ঠাঁই করে ডাস্টার কষিয়ে দিলেন সেই ছাত্রের কপালে। এখানে ডাস্টারের প্রহার খানি বড় কথা নয়। বড় কথা 'গোঁজামিল'।
দ্বিতীয়ত, দাদার কীর্তি সিনেমার সেই জায়গা যেখানে ছন্দবানী ক্লাবে বসে অনুপকুমার একটি ছেলেকে দু নম্বর কম দেন ভুলভাবে ছন্দ মেলানোর জন্য।
তৃতীয়ত, সিনে পাঠক থেকে নিজেকে সিনে মূর্খ বলতে আরম্ভ করবো। কেউ আমাকে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিক, আমি বিনয়ের সঙ্গে বুঝবো।
এবার শুরু করি। বাসু চট্টোপাধ্যায়ের "এক রুকা হুয়া ফ্যাসলা" আমার অন্যতম পছন্দের ছবি। অনেকবার দেখেছি সে ছবি। তাই যখন শুনলাম সৃজিত মুখোপাধ্যায় এটা নিয়ে ছবি করছেন। আগ্রহ ছিল। এটা ঠিক, নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের ছবির সঙ্গে অপর একটি অনুকৃতি ছবিকে মিলিয়ে কথা বলতে গেলে তুলনা চলেই আসবে, না চাইতেও। আমি চেষ্টা করবো এগুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে। গল্প সেই একই। একটি আঠারো উনিশ বছরের ছেলে তার দাদাকে হত্যা করার দায়ে অভিযুক্ত। সেই হত্যা সে সত্যিই করেছিল কিনা সেটা নিয়ে বারো জন জুরির ধ্যান ধারণা কথোপকথন, সংস্কার— সমস্ত কিছুর সারাৎসার এই ছবি।
মুশকিল হল: সিনেমার শুরুর দিকটা মেলাতে পারলাম না। কারণ একজন জাজ তিনি নিজেই বলে দেন ১৯৭৩ সাল থেকে ভারতীয় ন্যায়ালয়ে জুরি ব্যবস্থা আর নেই। তাহলে তার পরেও এই জুরিরা আসে। আর এটা গোটাটাই হয় সেই জাজের মস্তিষ্কে। কেন? আর তারাই জুরি হয়ে এসেছেন যারা সেই জাজের চেনাশোনা ব্যক্তিবর্গ। কেন? এমনকী জাজ নিজেও একজন জুরি। কেন? হিন্দিটায় তো এমন দেখিনি। যদি জুরি কে নিয়ে আসবার দরকার ই হয় তাহলে পরিচালক ১৯৭৩ সালে জুরি উঠে যাওয়ার কথা কইলেন ই বা কেন? আমাকে বুঝিয়ে দিন আমি বিনয়ের সঙ্গেই শিখবো। কারণ আমি নিজেকে একজন পাঠক হিসেবেই মনে করি।
আসলে গপ্পের গতিপ্রকৃতি জানি, শেষ ও জানি। কিন্তু শুরুটা দিয়ে কীকরে লাইনে আনবো এই হয়ে গেছে সমস্যা। নয়তো ছবি হিসেবে বেশ ভালোই বলতে হবে। অনেক জুরির পূর্ব সংস্কারের কারণ গুলো ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক। যেগুলো নিঃসন্দেহে ভালো উপস্থাপনা। কিন্তু সবার পূর্বকথা কেন প্রকট করলেন না তিনি, এটা জানতে মন চায়।
হ্যাঁ যে কথা বলতে হয় তিনি হিন্দি ছবির মতন এই ছবিকে একটি ঘরে আটকে রাখেন নি। সেটা একদিক থেকে খুব-ই ভালো। ঘটনা দেখিয়েছেন। বস্তির জীবনকে দেখিয়েছেন। যতটুকু দেখানো হোক, জিনিসটা সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে। বাকি সবই চেনা ছক। কেবল হিন্দি থেকে বাংলা করায় দু এক জায়গায় রামের ডায়লগ শ্যাম বলেছে। সে বলুক, অসুবিধা নাই। চেষ্টা করা হয়েছে যুগোপযোগী করে তোলার। সেই জন্যে নারী চরিত্র, কুয়্যার চরিত্রের উপস্থিতি দেখতে পাই। কিন্তু ওই যে প্রথম দিকের ওই সেমসাইড গোল আর ওই দু-একটি খটকা অতিক্রম করে দিকেই জিনিসটা চোদ্দ থেকে ষোলো কলার মাঝামাঝি রেঞ্জে বিরাজ করত। যাক গে, এর বেশি বলা উচিত নয়। ইচ্ছে হলে দেখবেন। শুনছি নাকি hoichoi তে পাওয়া যাচ্ছে।
ওহ, আমি একটি কাজ করেছি। "এক রুকা হুয়া ফ্যাসলা" থেকে বারো জন জুরিদের মিলিয়ে এই ছবির বারোজন ব্যক্তিকে মিলিয়েছি। যদিও এই বাংলা ছবিতে জুরিদের নাম আছে। হিন্দিতে ছিল না। তাই চরিত্রের ধাঁচ বুঝে আসল নাম গুলোই মেলানোর চেষ্টা করেছি। ইচ্ছে হলে পড়ে দেখতে পারেন।
১. দীপক কেজরিওয়াল (অর্জুন চক্রবর্তী)
২. অমিতাভ শ্রীবাস্তব (সুহোত্র মুখোপাধ্যায়)
৩. পঙ্কজ কাপুর (কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়)
৪. এস এম জাহির (কৌশিক সেন)
৫. সুভাষ উদগাটা (রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়)
৬. হেমন্ত মিশ্রা (কাঞ্চন মল্লিক)
৭. এম কে রায়না (সৌরসেনী সেন)
৮. কে কে রায়না (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়)
৯. অনু কাপুর (ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়)
১০. সুব্বিরাজ কক্কর (ঋত্বিক চক্রবর্তী)
১১. শৈলেন্দ্র গোয়েল (অনির্বাণ চক্রবর্তী)
১২. আজিজ খুরেশি (অনন্যা চট্টোপাধ্যায়)
সিনে_পাঠক_অভিজিৎ
©Cine _Paathak_Abhijit