Cine-Paathak / সিনে পাঠক

Cine-Paathak / সিনে পাঠক This page is not for film review at all. Its a page for film analysis at a very personal level.

30/01/2026

Disclaimer: Smoking is injurious to Health

There is no dialogue in this scene. Without any dialogue the director, Satyajit Ray, beautifully portrays social stature of three companions. After exposing a fraud sadhu one of the companions lights his cigar, while second one comes to light his cigarette and followed by third one to light his bidi. Socio economic background of these three is different but friendship is firm.

Film Courtesy : Kapurush o Mahapurush (Coward and The Holy Man) 1965. This particular scene belongs to "Mahapurush" part, taken from Youtube.

আজকের সিনেপাঠ: The Fabelmans (English / 2022)পরিচালনা: Steven Spielbergনিজের জীবন ফুটে ওঠে নিজের তৈরী সিনেমায়। সাধারণত এ...
29/11/2025

আজকের সিনেপাঠ: The Fabelmans (English / 2022)
পরিচালনা: Steven Spielberg

নিজের জীবন ফুটে ওঠে নিজের তৈরী সিনেমায়। সাধারণত এরকম ক্ষেত্রে আত্মজীবনীকার অনেক বেশি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। কোথায় শুরু কোথায় শেষ করবেন বুঝে পান না। কারণ পরিচালক হয়ে নিজের জীবন দেখানো এবং সেই ছবির অপ্রয়োজনীয় দৃশ্য নির্মম ভাবে ছাঁটাই করে দেওয়া মুখের কথা নয়। তবে পরিচালকের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেল।

স্টিভেন স্পিলবার্গের এই ছবি তাঁর নিজের জীবনেরই খণ্ডাংশ। এই খন্ডের মধ্যেই ছোটবড়ো অনেক ঘটনাই এসে তাঁকে ধাক্কা মারে। ছোটবেলায় একটি সিনেমায় দেখা ভয়ানক রেল দুর্ঘটনা তাঁকে এতটাই নাড়া দিয়েছিল যে ঘরের খেলনা রেলগাড়িকেও ওই ভাবে ভাঙতে ইচ্ছে হত। দৈব ক্রমে জুটে যায় ঘরের পুরোনো মুভি ক্যামেরা। ছোট্ট ছেলেটি খুঁজে পায় তাঁর ভালোবাসার বস্তু। সারাদিন সে ক্যামেরা হাতে নানা ধরনের ঘটনা তুলে চলেছে। সেখান থেকেই গল্প বলার প্রবণতা বাসা বাঁধছে তাঁর মনে। এই নেশা বা ভালোবাসাই জীবনের এক পর্যায়ে এসে পেশায় পরিণত হয়, পরিচালক ইচ্ছে করে ছবি ওখানেই শেষ করে দেন।

স্পিলবার্গের ছবি যারা দেখেন নিয়মিত তাঁরা বুঝবেন ভদ্রলোক ক্যামেরা দিয়েই অনেক কথা বলে দিতে চান, তা সে যে গল্পই হোক না কেন। এই ছবিতে অনেক সূক্ষ্ম ইঙ্গিত আছে যেগুলো তাঁর পূর্ববতী ছবিগুলিতে দেখা গেছে। তাঁর নিজের জীবনের পিতা মাতার সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার মধ্যে "Catch Me If You Can" ছবিকে দেখা যাবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে নিজের স্কুল সহপাঠীদের নিয়ে যখন ছবি বানিয়েছেন তাঁর মধ্যে অদ্ভুতভাবে "Saving Private Ryan" কে পাওয়া যায়। ইহুদি বলে যখন আমেরিকার একটি স্কুলে তাঁকে প্রতিনিয়ত অপমান সহ্য করতে হয়, সেই অপমানের সঙ্গে "Schindler's List" যেন ভেসে ওঠে। আরও সূক্ষ্ম ভাবে দেখলে বুঝবো পরিচালকের ছোটবেলার রূপটিই কিন্তু নায়ক নয়। নায়ক আসলে "ক্যামেরা ধরার প্যাশন"। গল্প বলতে চাওয়ার প্রবণতা ই এখানে এই ছবির আসল নায়ক। ছবিতে যাকে আমরা দেখি সে কেবল সেই প্যাশন ধারণকারী একটি মনুষ্য অবয়বমাত্র।

আসলে সিনেমা একটি ব্যক্তিসাপেক্ষ বিষয়। কে কীভাবে সিনেমা কে ব্যাখ্যা করে এগুলো আপন আপন চিন্তাভাবনায় সমৃদ্ধ হয়। কিন্তু সিনেমা বা লোকরঞ্জন মানুষের অন্যতম প্রাচীন এক প্রবণতা থেকে আসে। সহজ গল্প বলার প্রবণতা। সেই গল্প বলার প্রবণতাই বেদ উপনিষদের মতন সাহিত্যের জন্মদাতা। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে ততই সহজ গল্প বলার প্রবণতার মধ্যে অনেক জটিলতা এসে পড়েছে। স্পিলবার্গ তাঁর চিরায়িত পথে আজও সহজ গল্পই বলতে চান। সহজ গল্পই বলতে চেয়েছেন এই ছবিতে। ছবির মূল চরিত্র টিও সেইরূপ সহজভাবে গল্প বলাকেই তুলে ধরতে চেয়েছে সবার কাছে।

আরও একটি কথা- 'বিস্ময়'। সেযুগে ক্যামেরার রোল হত স্বল্প দৈর্ঘ্যযুক্ত। তার মধ্যেই ফিল্ম তোলবার যথাযথ চেষ্টা হত। কেমন করে ঘটমান বিষয়গুলি ক্যামেরার মধ্যে দিয়ে ফিল্মের মধ্যে আঁকা হয়ে যায় এই ভাবনা টা বড্ড বিস্ময়কর। এবং এই বিস্ময় ছিল বলেই সৃষ্টিতে আনন্দ ছিল। আজ ডিজিটাল ক্যামেরায় ফিল্ম রোলের অপ্রতুলতা নেই। যত খুশি শট নাও। এই ক্যামেরা বিস্ময় নেই বলে কি সৃজনশীলতাতেও তার প্রভাব এসে পড়ে। জানা নেই।

ভালো ছবি তবে ঠিক জাদরেল ছবির পর্যায়ে হয়ত ফেলা যাবে না। কিন্তু দেখতে শুরু করলে ভালো লাগবে। Soni Liv এ পাওয়া যাচ্ছে।

সিনে_পাঠক_অভিজিৎ
©Cine_Paathak_Abhijit

সবাই ফলাও করে ২ রা মে পালন করে। সেভাবে কাউকে দেখি না যে ফলাও করে ২ রা অক্টোবর পালন করতে দেখি না। কারণ হয়ত এটাই যে, আজকের...
02/10/2025

সবাই ফলাও করে ২ রা মে পালন করে। সেভাবে কাউকে দেখি না যে ফলাও করে ২ রা অক্টোবর পালন করতে দেখি না। কারণ হয়ত এটাই যে, আজকের তারিখটায় এক মহাপুরুষের জন্মদিন, ফলে সে জন্মদিনের আড়ালে অন্য গুণীজনেদের জন্মদিন চাপা পড়ে যায়। নীরবে চলে যায় জন্মদিন। শতবর্ষ ও কেটে গেছে প্রায় নীরবে। "সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল" এর আড়ালে চিরকাল সরিয়ে রাখা হয়েছে তাঁকে।

কে তাঁকে মনে করল বা ভুলে গেল তাতে কিছু এসে যায় না। শিল্পীর কাজ শিল্প তৈরী করা। তাঁর শিল্প দেখে কে বাহবা দিল সেটার পরোয়া করা তাঁর কাজ নয়। তাঁর কাজ যদি অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যায় সেই দায় উত্তরসূরিদের, পরিচালকের নয় কখনোই।

জন্ম বার্ষিকীতে পরিচালক তপন সিংহ

আজকের সিনেপাঠ — The Real Charlie Chaplin [English Documentary/ 2021]পরিচালনা- Peter Middleton & James Spinneyসাধারণত তথ্...
22/07/2025

আজকের সিনেপাঠ — The Real Charlie Chaplin [English Documentary/ 2021]

পরিচালনা- Peter Middleton & James Spinney

সাধারণত তথ্যচিত্র দেখতে বসলে ঘুম পেয়ে যায়। এর দুটো কারণ। প্রথমত, একই ধাঁচের হয়ে থাকে; দ্বিতীয়ত, যখন-ই তারা প্রসঙ্গ বদলে ফেলে আমিও খেই হারিয়ে ফেলি। বিদেশী ভাষায় তথ্যচিত্র দেখতে শুনতে বসলে এই হয় ঝামেলা। কিন্তু সেসব থাকা সত্ত্বেও কিছুটা সাহস করেই এই তথ্যচিত্র দেখতে বসলাম।

তথ্যচিত্রের প্রসঙ্গ চ্যাপলিন। কিন্তু চ্যাপলিন সম্পর্কে বেশী কিছু পড়া বা দেখা নেই। তাই দ্বিধান্বিত ছিলাম মারাত্মক। কিন্তু এই ছবি আমাকে সব দ্বিধা থেকে মুক্ত করে দিল। যদি কেউ জিজ্ঞেস করে- একটি শব্দে এই তথ্যচিত্রকে ব্যাখ্যা করতে, আমি অবলীলায় বলে দেবো “যত্ন”। কেন বললাম, আসুন সে কথা বলি।

চার্লি চ্যাপলিন গোটা পৃথিবীর কাছে আজও বিস্ময়। চ্যাপলিনের জন্ম, বেড়ে ওঠা, জনপ্রিয় ট্র্যাম্প থেকে ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র জগতে নিজের স্বতন্ত্র অস্তিত্বকে মেলে ধরা, ব্যক্তিগত কেচ্ছাসমূহ, মানবতাবোধের প্রতি সমর্থন, বামপন্থার প্রতি ঝোঁক, দেশত্যাগ ও শেষজীবন-- এই নিয়ে মোটামুটি তথ্যচিত্র সাজানো হয়েছে। যে বিষয়টি অভিনব লাগে তা হল- তথ্যচিত্রের ভাষ্যকার কেবল চ্যাপলিনের জীবনপ্রবাহকে চোখের সামনে মেলে ধরেন চ্যাপলিনের আত্মজীবনীর অংশ থেকেই। অর্থাৎ চ্যাপলিন-ই গল্প শুরু করেন এবং চ্যাপলিন-ই শেষ করেন।

কিন্তু এর পরেও আরও অনেক আশ্চর্যের জায়গা থেকে যায়। যতটা সম্ভব সত্যি ঘটনা সমন্বিত দুর্লভ ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। ইউরোপের পথ দিয়ে ঘোড়ায় টানা ট্রাম গাড়ি যাচ্ছে, এই জিনিস আসল ফুটেজে দেখতে পাওয়া বিশাল এক প্রাপ্তি। বিশ শতকের একদম শুরুর দশক গুলিতে লন্ডন শহরের চলমান চেহারা দেখতে পাওয়া যায়। পাওয়া যায় অজস্র টুকরো টাকরা চ্যাপলিনের মুভিং ইমেজ, যেখানে তিনি জনতার মাঝে সমাদৃত। আর পাওয়া যায় চ্যাপলিনের কন্ঠস্বর এবং অপরাপর বহু মানুষদের কন্ঠস্বর যারা তাঁকে অত্যন্ত কাছ থেকে দেখেছেন। গোটা তথ্যচিত্র আসলে একটা পরিপূর্ণ গল্প বলতে চেষ্টা করে। সে গল্পের প্রধান চরিত্রকে কখনও ভুরু কোঁচকানোর ভঙ্গিতে আতস কাঁচে ফেলে বিচার করতে বসে না। বরং যা কিছু সত্য এবং তদুপযোগী তথ্য, সেগুলি-ই সে কেবল সামনে এনে বিচারের দায়িত্ব দর্শকের ওপর ছেড়ে দেয়। ব্যস। এখানেই তাঁর কাজ শেষ। এবার দর্শকের কাজ, সে ভাববে।

চ্যাপলিনের ব্যক্তিগত জীবনপ্রবাহের সঙ্গে আমরা একাত্ম নাও হতে পারি কিন্তু তাঁর কাজকে আমরা লঘু চোখে দেখতে পারি না। পৃথিবী তে মানুষের জীবন যত জটিল হবে ততই চ্যাপলিনের কাজ ধরা দেবে নতুন নতুন আঙ্গিক থেকে। সময়-ই চ্যাপলিনকে কিংবদন্তী বানিয়েছিল। সময়-ই চ্যাপলিনকে প্রাসঙ্গিক করে মেলে ধরবে বারংবার। আমাদের কাজ দর্শক হিসেবে ওই রিভাইসড এডিশন গুলোয় একটু চোখ বোলানো।

অসধারণ এই তথ্যচিত্র। সত্যি-ই যারা চ্যাপলিনের জীবনকে গল্পচ্ছলে জানতে চান দেখতেই পারেন এই ছবি। আমার বিশ্বাস তারা নিরাশ হবেন না।

©Cine_Paathak_Abhijit
সিনে_পাঠক_অভিজিৎ

নির্জন সৈকতে পরিচালনা : তপন সিংহ
19/07/2025

নির্জন সৈকতে
পরিচালনা : তপন সিংহ

Popular Nehru-face in Indian Films
12/07/2025

Popular Nehru-face in Indian Films

The Hunt- The Rajiv Gandhi Assassination Case [series/ 2024]পরিচালনা- Nagesh Kukunoorপৃথিবীর সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের দেশে অপ...
08/07/2025

The Hunt- The Rajiv Gandhi Assassination Case [series/ 2024]

পরিচালনা- Nagesh Kukunoor

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের দেশে অপরাধে লিপ্ত থাকা দেশবিরোধীদের ধরা কতটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার; সেটা এই ধরণের সত্য ঘটনাশ্রিত সিরিজ না দেখলে বোঝা যায় না। অনেক সময় ধৈর্য ধরতে গিয়ে অনেক অপরাধী ফসকে যায়। যাক, এবার গল্পে আসা যাক।

১৯৯১-এর ২১ শে মে তামিলনাড়ুর শ্রীপেরাম্বুদুরে নির্বাচনী প্রচার করতে গিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী মানব বোমায় নিহত হন। নিঃসন্দেহে এই কাজ এল টি টি ই- সংস্থার। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই তদন্ত কমিটির তৎপরতায় নব্বই দিনের মাথায় অপরাধীরা ধরা পড়েছিল। কিন্তু তারপর? নিরেট দেওয়াল। সে দেওয়ালে মাথা ঠুকেও আসল ব্যক্তির কাছে পৌঁছানো সম্ভবপর হয়ে ওঠে নি কখনই। প্রশ্ন উঠবে কেন? কারণ পুলিশ ও তদন্ত কমিটির তৎপরতায় গুটিকয় অপরাধীদের ধরা গিয়েছিল ঠিকই; কিন্তু আসল অপরাধী- শিবরাসান এবং অন্যান্য অনুচরেরা ক্রমশ পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। যে বাড়িতে শেষমেশ এসে তারা লুকিয়েছিল পুলিশ তার খবর পেয়েছিল যথাকালে। কিন্তু সায়ানাইড কিট আনার চক্করে প্রায় ৩৬ ঘন্টা সেখানে সেনা বসিয়ে রাখতে হয়। এলাকায় মেলা লেগে যায়। লোকজন ভিড় করে অপরাধী ধরা দেখতে আসে। অতর্কিত হানার বদলে প্রকাশ্য দিবালোকে হানা দেওয়া হয় বাড়িতে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়। শিবরাসান এবং অন্যান্যরা সফল আত্মহত্যা করতে পেরেছিল। শিবরাসানকে ধরা গেলে এই তদন্তে আরও নতুন মোড় সামনে এলেও আসতে পারত। কিন্তু সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের দেশে সীদ্ধান্ত নিতেই যেখানে অনেকটা সময় লেগে যায়, সেখানে ইচ্ছা থাকলেও চেষ্টা থাকলেও পাখি উড়ে যায় এবং সেটা দাঁড়িয়ে দেখতে হয়। যাই হোক, ৯০ দিনের মাথায় তারা যে সমস্যার সমাধান করতে পেরেছিলেন সেটা সত্যিই প্রশংসার বিষয়। নিঃসন্দেহে এই কৃতিত্ব তদন্ত কমিটি ও পুলিশের।

সেদিন যারা ধরা পড়েছিল, আজ তারা সকলেই নিঃশর্তে মুক্তি পেয়েছেন। এল টি টি ই-র সর্বাধিনায়ক প্রভাকরণ-ও মারা গেছেন। কিন্তু সেদিন সে দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারাল, তারা কেউ আর ফিরবে না। সেদিনকার অপরাধীরা হয়ত আজ প্রকাশ্য ক্যামেরায় ‘সরি’ বলে দেবেন। কিন্তু তাদের সেই ‘সরি’ রাজীব গান্ধী সহ সেই ১৪ জন মৃতব্যক্তিকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না (বোমারু মেয়েটিকে এখানে ইচ্ছে করেই গুনি নি)। আফসোস বা দুঃখ এখানেই।

সকলের অভিনয় ভালো। সিরিজের বহু জায়গায় অনর্গল তামিলে কথোপকথন আছে- সেসবে কোনো অসুবিধা হয় না। সকলের অভিনয় সহজ সুন্দর। সোনি লিভ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যথেষ্ট আণ্ডার রেটেড; কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে ঐতিহাসিক বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনায় সোনি লিভ-এর জুড়ি মেলা ভার। রকেট বয়েজ, ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট, দ্য হান্টের মতন সত্যঘটনা সম্বলিত সিরিজ ভালো ভাবে উপস্থাপিত হতে দেখে ভালো লাগছে। এভাবেই এগিয়ে চলুক।

সিনে_পাঠক_অভিজিৎ
© Cine_Pathaak_Abhijit

আজকের সিনেপাঠ — সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই (বাংলা / ২০২৫)পরিচালনা- সৃজিত মুখোপাধ্যায়আমি জানি আমার বুদ্ধি মোটা। আমার চেতনা ...
23/04/2025

আজকের সিনেপাঠ — সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই (বাংলা / ২০২৫)
পরিচালনা- সৃজিত মুখোপাধ্যায়

আমি জানি আমার বুদ্ধি মোটা। আমার চেতনা ততটা সূক্ষ বুদ্ধি সম্পন্ন নয়। তাই নিজের ভোঁতা মাথা নিয়েই লিখতে বসছি। যেহেতু আমার বুদ্ধি কম তাই আমি তিনটি প্রস্তাব রাখছি:

প্রথমত, আমার মাস্টার মশাইয়ের একটি গল্প বলি। তিনি এবং তাঁর সহপাঠীবৃন্দ ছোটবেলায় ইস্কুলে অঙ্ক করছেন। এক শিক্ষক মহাশয় একটি অঙ্কের সমাধান করে দিয়েছেন, কিন্তু ঠিকমত ব্যাখ্যা করতে পারেন নি। আমার মাস্টার মশাইয়ের সহপাঠী বললেন গোঁজামিল। অমনি অংকের মাস্টার ঠাঁই করে ডাস্টার কষিয়ে দিলেন সেই ছাত্রের কপালে। এখানে ডাস্টারের প্রহার খানি বড় কথা নয়। বড় কথা 'গোঁজামিল'।

দ্বিতীয়ত, দাদার কীর্তি সিনেমার সেই জায়গা যেখানে ছন্দবানী ক্লাবে বসে অনুপকুমার একটি ছেলেকে দু নম্বর কম দেন ভুলভাবে ছন্দ মেলানোর জন্য।

তৃতীয়ত, সিনে পাঠক থেকে নিজেকে সিনে মূর্খ বলতে আরম্ভ করবো। কেউ আমাকে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিক, আমি বিনয়ের সঙ্গে বুঝবো।

এবার শুরু করি। বাসু চট্টোপাধ্যায়ের "এক রুকা হুয়া ফ্যাসলা" আমার অন্যতম পছন্দের ছবি। অনেকবার দেখেছি সে ছবি। তাই যখন শুনলাম সৃজিত মুখোপাধ্যায় এটা নিয়ে ছবি করছেন। আগ্রহ ছিল। এটা ঠিক, নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের ছবির সঙ্গে অপর একটি অনুকৃতি ছবিকে মিলিয়ে কথা বলতে গেলে তুলনা চলেই আসবে, না চাইতেও। আমি চেষ্টা করবো এগুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে। গল্প সেই একই। একটি আঠারো উনিশ বছরের ছেলে তার দাদাকে হত্যা করার দায়ে অভিযুক্ত। সেই হত্যা সে সত্যিই করেছিল কিনা সেটা নিয়ে বারো জন জুরির ধ্যান ধারণা কথোপকথন, সংস্কার— সমস্ত কিছুর সারাৎসার এই ছবি।

মুশকিল হল: সিনেমার শুরুর দিকটা মেলাতে পারলাম না। কারণ একজন জাজ তিনি নিজেই বলে দেন ১৯৭৩ সাল থেকে ভারতীয় ন্যায়ালয়ে জুরি ব্যবস্থা আর নেই। তাহলে তার পরেও এই জুরিরা আসে। আর এটা গোটাটাই হয় সেই জাজের মস্তিষ্কে। কেন? আর তারাই জুরি হয়ে এসেছেন যারা সেই জাজের চেনাশোনা ব্যক্তিবর্গ। কেন? এমনকী জাজ নিজেও একজন জুরি। কেন? হিন্দিটায় তো এমন দেখিনি। যদি জুরি কে নিয়ে আসবার দরকার ই হয় তাহলে পরিচালক ১৯৭৩ সালে জুরি উঠে যাওয়ার কথা কইলেন ই বা কেন? আমাকে বুঝিয়ে দিন আমি বিনয়ের সঙ্গেই শিখবো। কারণ আমি নিজেকে একজন পাঠক হিসেবেই মনে করি।

আসলে গপ্পের গতিপ্রকৃতি জানি, শেষ ও জানি। কিন্তু শুরুটা দিয়ে কীকরে লাইনে আনবো এই হয়ে গেছে সমস্যা। নয়তো ছবি হিসেবে বেশ ভালোই বলতে হবে। অনেক জুরির পূর্ব সংস্কারের কারণ গুলো ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক। যেগুলো নিঃসন্দেহে ভালো উপস্থাপনা। কিন্তু সবার পূর্বকথা কেন প্রকট করলেন না তিনি, এটা জানতে মন চায়।

হ্যাঁ যে কথা বলতে হয় তিনি হিন্দি ছবির মতন এই ছবিকে একটি ঘরে আটকে রাখেন নি। সেটা একদিক থেকে খুব-ই ভালো। ঘটনা দেখিয়েছেন। বস্তির জীবনকে দেখিয়েছেন। যতটুকু দেখানো হোক, জিনিসটা সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে। বাকি সবই চেনা ছক। কেবল হিন্দি থেকে বাংলা করায় দু এক জায়গায় রামের ডায়লগ শ্যাম বলেছে। সে বলুক, অসুবিধা নাই। চেষ্টা করা হয়েছে যুগোপযোগী করে তোলার। সেই জন্যে নারী চরিত্র, কুয়্যার চরিত্রের উপস্থিতি দেখতে পাই। কিন্তু ওই যে প্রথম দিকের ওই সেমসাইড গোল আর ওই দু-একটি খটকা অতিক্রম করে দিকেই জিনিসটা চোদ্দ থেকে ষোলো কলার মাঝামাঝি রেঞ্জে বিরাজ করত। যাক গে, এর বেশি বলা উচিত নয়। ইচ্ছে হলে দেখবেন। শুনছি নাকি hoichoi তে পাওয়া যাচ্ছে।

ওহ, আমি একটি কাজ করেছি। "এক রুকা হুয়া ফ্যাসলা" থেকে বারো জন জুরিদের মিলিয়ে এই ছবির বারোজন ব্যক্তিকে মিলিয়েছি। যদিও এই বাংলা ছবিতে জুরিদের নাম আছে। হিন্দিতে ছিল না। তাই চরিত্রের ধাঁচ বুঝে আসল নাম গুলোই মেলানোর চেষ্টা করেছি। ইচ্ছে হলে পড়ে দেখতে পারেন।

১. দীপক কেজরিওয়াল (অর্জুন চক্রবর্তী)
২. অমিতাভ শ্রীবাস্তব (সুহোত্র মুখোপাধ্যায়)
৩. পঙ্কজ কাপুর (কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়)
৪. এস এম জাহির (কৌশিক সেন)
৫. সুভাষ উদগাটা (রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়)
৬. হেমন্ত মিশ্রা (কাঞ্চন মল্লিক)
৭. এম কে রায়না (সৌরসেনী সেন)
৮. কে কে রায়না (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়)
৯. অনু কাপুর (ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়)
১০. সুব্বিরাজ কক্কর (ঋত্বিক চক্রবর্তী)
১১. শৈলেন্দ্র গোয়েল (অনির্বাণ চক্রবর্তী)
১২. আজিজ খুরেশি (অনন্যা চট্টোপাধ্যায়)

সিনে_পাঠক_অভিজিৎ
©Cine _Paathak_Abhijit

Address

Sodepur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Cine-Paathak / সিনে পাঠক posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category